ডারউইনের গৌরবময় জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাকাইয়ের মাটিতে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। দুই দিন ও মাত্র পাঁচ সেশনের মধ্যে শেষ হওয়া এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ দুই ইনিংসেই একশর নিচে গুটিয়ে যায়, যা দেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৫ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রতিরোধ। তবে প্রথম টেস্টে জয়ের সুবাদে ১-১ সমতায় শেষ হলো এই সিরিজ।
ম্যাকাইয়ের গতি ও বাউন্সে ভরা উইকেটে টিকে থাকার ন্যূনতম টেকনিক দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ব্রিসবেনের গ্যাবার মতো উইকেটে যেখানে শরীরের কাছাকাছি খেলা এবং বল ছাড়ার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল, সেখানে একের পর এক ভুল শট খেলেছেন শান্ত-লিটনরা। সাদমান ইসলাম পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর মুমিনুল হক পরের বলেই বোল্ড হন। ডারউইনে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ফাইন লেগের হাতে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩১ রান করে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন। হাসান মাহমুদ শর্ট লেগে গ্লাভড হন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ প্যাট কামিন্সের বলে ক্যাচ দেন। সবচেয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের। স্টার্কের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সিরিজে টানা তৃতীয়বারের মতো শূন্য রানে ফেরেন তিনি; পুরো সফরে তিন ইনিংসে ২৭ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি লিটন।
এই ব্যাটিং ধ্বংসস্তূপের মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ৩৯ বছর বয়সি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিশোর বয়সে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটার ৮০ বল খেলে ২৯ রানে অপরাজিত থেকে দেখিয়েছেন কীভাবে এমন উইকেটে ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে হয়। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে কোনো যোগ্য সঙ্গী পাননি তিনি।
ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট শিকার করেন ৩৬ বছর বয়সি এই বাঁহাতি পেসার। এটি তার ১০৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৪৪৫ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় দশম স্থানে উঠে এসেছেন স্টার্ক। ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। ম্যাচ শেষে স্টার্ক জানান, ডারউইনের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রশংসা করেছেন।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সকালে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়। ক্যামেরুন গ্রিন সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন এবং নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইতিহাস গড়েন শরিফুল ইসলাম। তিনি ৪৮ রানে ৭ উইকেট নেন, যা বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এবং এক ইনিংসে কোনো বাংলাদেশি পেসারের প্রথম ৭ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তার এই ঐতিহাসিক কীর্তি ম্লান হয়ে যায়।
প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে লাঞ্চের পর প্রথম আট ওভারেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চা বিরতির আগেই পড়ে যায় ৮ উইকেট। বিরতির পর নাথান লায়ন মাত্র তিন বলের মধ্যে শেষ দুই উইকেট তুলে নিলে ৯৫ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। তবে এই হারের পরও ডারউইনে প্রথমবার টেস্ট জয়ের গৌরব এবং সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করতে পারা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। আগামী অক্টোবরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ : ৬৪ (৩৪ ওভার) ও ৯৫ (৩৮.৩ ওভার; শান্ত ৩১, মুশফিক ২৯*; স্টার্ক ১০/৫১ ম্যাচে, কামিন্স ৩/১০, লায়ন ৩/২৫)
অস্ট্রেলিয়া : ২১০ (৫২.৩ ওভার; গ্রিন ৬৭, লায়ন ৩২*; শরিফুল ৭/৪৮)
বাংলাদেশের ষড়ঋতুর অপূর্ব রূপ বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের গভীর সম্পর্ক নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা।
সিরাজগঞ্জ পৌর বিএনপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. মিন্টু শেখকে মানববন্ধনে বক্তব্য শেষে দলীয় শৃঙ্খলা…
নেপাল ও তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যু…
ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ার অভিযোগে এক যুবদল নেতা ও গৃহবধূকে খুঁটিতে বেঁধে ১৬ ঘণ্টা শারীরিক নির্যাতনের…
বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মোহাম্মদ আব্বাসের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়েও জেমি স্মিথ ও জর্ডান…
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে…
This website uses cookies.