
ডারউইন টেস্ট কি চতুর্থ দিনেই নিজেদের করে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? তৃতীয় দিন শেষে ডারউইনের দর্শকদের মনে এই প্রশ্নটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর বল হাতেও দাপট দেখিয়েছে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ বাঁচাতে হলে এখনো তাদের অন্তত ৬৭ রান করতে হবে, হাতে আছে মাত্র ৬টি উইকেট।
ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে টেস্ট জেতার কোনো ইতিহাস নেই অস্ট্রেলিয়ার। ডারউইনে বাংলাদেশের লিড যখন ২০৬ ছাড়িয়ে যায়, তখনই ইতিহাস তাদের চোখ রাঙাতে শুরু করে। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৪২৬ রান। এটি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে করা ৪২৭ রানই এখন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের এই বিশাল সংগ্রহের পেছনে বড় অবদান ছিল টেলএন্ডারদের দৃঢ়তা। মুশফিকুর রহিম যখন ৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন, তখনো বাংলাদেশের লিড এতটা বড় ছিল না। কিন্তু সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৫৪ বলে ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংসকে কেন্দ্র করে শেষ চার উইকেট আরও ১১৮ রান যোগ করে। এর মধ্যে ৭৫ রানই এসেছে আজ তৃতীয় দিনে। হাসান মাহমুদ খেলেন ৯২ বল, রান করেন ১৪। এছাড়া তাইজুল ইসলামের ১৭ ও তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংসগুলো বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দেয়। শেষ উইকেটে ইবাদত হোসেনের নাথান লায়নকে মারা বিশাল ছক্কাটিও ছিল দেখার মতো। এ সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা তিনটি ক্যাচ মিস না করলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। তবে তানজিম হাসানের মতে, ক্যাচ মিস খেলারই অংশ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেও দলের বিপর্যয়ে তা উদযাপনের সুযোগ পাননি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করার পর ১১তম ওভারে ট্রাভিস হেডকেও (১৭) সাজঘরে ফেরান হাসান। ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। তবে ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনকে বোল্ড করে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর দলীয় ১২২ রানে স্মিথকে (৪৪) নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি দিনের বাকি সময়টুকু পার করে দেন। গ্রিন অবশ্য ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছেন; তাসকিন আহমেদের একটি বল তাঁর স্টাম্পে আঘাত করলেও অবিশ্বাস্যভাবে বেলস পড়েনি, উল্টো বল সীমানা পেরিয়ে চার হয়ে যায়। দিন শেষে গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ৭ রানে অপরাজিত আছেন। কাল চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২