
পেস বোলিংয়ের পর এবার তানজিদ হাসানের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হওয়ার পর, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তানজিদ তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে ৪০টি ওয়ানডে ও ৫৩টি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই বাঁহাতি ওপেনার টেস্ট ক্রিকেটেও যে নিজের জায়গা পাকা করতে এসেছেন, তা ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউড ও ওয়েবস্টারদের মতো বোলারদের সামলে প্রমাণ করে দিলেন।
ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে নাথান লায়নকে লং অফে ঠেলে এক রান নেওয়ার পর নাজমুল হোসেনের সঙ্গে মাঝ উইকেটে দেখা হতেই শূন্যে লাফিয়ে নিজের শতরান উদ্যাপন করেন তানজিদ। ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে তিনি জানান দেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। তার এই ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে বিস্ময় হয়ে এসেছে, কারণ মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা একজন ব্যাটার যেভাবে ড্রাইভ, পেছনের পায়ে পাঞ্চ এবং ওয়েবস্টারকে তেড়ে এসে ছক্কা মেরেছেন, তা ছিল দেখার মতো।
তানজিদের প্রথম ৫০ রান আসে ১০২ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে এবং পরের ৫০ রান আসে মাত্র ৮৬ বলে, যেখানে তিনি আরও তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বল খেলে ১০১ রান করে তিনি আউট হন। তার এই সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ দল বেশ সুসংহত অবস্থানে পৌঁছেছে। আগের দিন সাদমান ইসলাম এবং আজ মুমিনুলের উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ ২৩০/২ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের চেয়ে ৩২ রানে এগিয়ে যায়। মুমিনুলের সঙ্গে তানজিদের ১০২ রানের জুটিটি ভেঙে যায় মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর। ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকারের ১০৮ রানের জুটিটি এখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় উইকেট জুটি হিসেবে টিকে আছে।
অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর স্টিভেন স্মিথ উইকেটকে ‘ট্রিকি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে তানজিদ, মুমিনুল ও নাজমুল হোসেনের ব্যাটিং দেখে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি। বাংলাদেশ দলের এক সদস্য স্মিথের এই মন্তব্যকে ‘মাইন্ডগেম’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, উইকেট মোটেও ট্রিকি নয়। মজার ব্যাপার হলো, তানজিদ ব্যক্তিগত ৬২ রানের সময় স্লিপে ক্যাচ দিলেও স্মিথ তা নিতে পারেননি। অর্থাৎ, উইকেট নয়, বরং স্লিপে ক্যাচ নেওয়াটাই ছিল ট্রিকি। তানজিদ ফেরার পর নাজমুল ও মুশফিকুর রহিমের জুটিতে বাংলাদেশ তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
ডারউইনের সবুজ উইকেটে প্যাট কামিন্স–জস হ্যাজলউড–ওয়েবস্টারদের সামলে ১৮৮ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছে সেটাও জানিয়ে দিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২