২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অবৈধভাবে সম্প্রচার ঠেকাতে একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশ। যৌথ এই অভিযানে প্রায় ৩ হাজার অবৈধ ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসি বন্ধে বিশ্বকাপ চলাকালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। সমপরিমাণ অর্থাৎ এক হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়াতেও। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশ আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
'অপারেশন অফসাইডস' এবং 'অপারেশন রেড কার্ড' নামের এই বিশেষ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার করা কেবল মেধাস্বত্ব আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
ডিওজে জানিয়েছে, গত মাসের শেষভাগ পর্যন্ত অবৈধভাবে বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সাথে জড়িত ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন জব্দ করা হয়। ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রশাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা বৈশ্বিক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন জানান, বিশ্বকাপের মতো বড় সরাসরি সম্প্রচারিত আসরগুলোকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের একটি বড় অংশ আসে।
এদিকে কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযান চলাকালে 'লস সিবেরইনফিলত্রাদোস' নামের একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন এবং তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়াজুড়ে জাল ক্রীড়া পোশাক বা জার্সি বিক্রির বিরুদ্ধেও দেশব্যাপী তল্লাশি চালানো হয়। নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিওজে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় অবৈধ স্ট্রিমিং এবং নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে…
দীর্ঘ দুই দশকের আলোচনার পর সই হওয়া মার্কিন-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন…
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।…
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, মোদি সরকার সংলাপের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে…
বাজেট প্রণয়নের চেয়ে এর সফল বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।…
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। এই ভূখণ্ডের শ্রমবাজারের মৌলিক রূপান্তর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য…
This website uses cookies.