১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঐতিহাসিক বৈরিতা এবং সাবেক ফুটবলারদের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমের ভিডিওর কারণে ম্যাচটি নিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করেছে এবং এটিকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘হাই-রিস্ক’ ম্যাচ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
গত সপ্তাহে মায়ামিতে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সময় দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবার আটলান্টায় ৬৮ হাজার ২৩৯ জন ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটবে। ম্যাচটির টিকিটের ব্যাপক চাহিদার কারণে ফিফার অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় সাইটে প্রতিটি টিকিটের দাম ৩ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ লাখ টাকারও বেশি। সংঘর্ষ এড়াতে স্টেডিয়ামের ভেতরে সমর্থকদের আলাদা করার ব্যবস্থা না থাকলেও, স্থানীয় প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট কিছু বার ও রেস্তোরাঁকে কেবল নির্দিষ্ট দেশের সমর্থকদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ‘লাস মালভিনাস, পর দিয়েগো অ্যান্ড পর লা আলতিমা দে লিও’ স্লোগান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরিনোর ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা দাবির পুনরাবৃত্তি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বুয়েনস আইরেস সরকার দাঙ্গা এড়াতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর, এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তারক্ষীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ছবি বা ‘মালভিনাস’ লেখা কোনো ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড গ্যালারিতে দেখা মাত্রই তা বাজেয়াপ্ত করার জন্য।
এদিকে, ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার গ্যারি লিনেকার নিজের পডকাস্টে ফকল্যান্ডসের পরিবর্তে আর্জেন্টিনার ভাষায় ‘মালভিনাস’ শব্দটি ব্যবহার করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, আর্জেন্টিনায় দ্বীপটি এই নামেই পরিচিত এবং তিনি কেবল তথ্যগতভাবে সঠিক শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের এই উত্তেজনা এখন খেলার মাঠের উত্তাপকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২