Header Premium (728×90)

ফুটবলের আসল ঠিকানা কি ইংল্যান্ড নাকি অন্য কোথাও?

প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এলেই ইংল্যান্ডের সমর্থকরা গর্বের সাথে বলে থাকেন, ‘ইট’স কামিং হোম’ বা ফুটবল এবার ঘরে ফিরছে। ১৮৬৩ সালে আধুনিক ফুটবলের নিয়মকানুন প্রবর্তনের কারণে ইংল্যান্ডকে ঐতিহাসিকভাবে এই খেলার জন্মভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ক্লাব লিগটিও এই দেশেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে বর্তমান সময়ে ফুটবল একটি বৈশ্বিক খেলা, যার অভিভাবক সংস্থা ফিফার সদস্য সংখ্যা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জাগে, ফুটবলের আসল ঘর বা কেন্দ্রবিন্দু এখন কোথায়?

দীর্ঘদিন ধরে এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ব্রাজিলকে বিবেচনা করা হতো, কারণ দেশটির পুরুষ দল অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। তবে অতীতের সাফল্য বর্তমানের মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়, যার প্রমাণ চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়। খেলার মান নির্ধারণের জন্য ‘এলো স্কোর’ একটি কার্যকর মাধ্যম, যা প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি ম্যাচের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে। এই র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বর্তমানে শীর্ষ দল স্পেন, যারা ১৯ জুলাই ফাইনালে খেলছে।

ফুটবলের বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দু বা ‘সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি’ বের করার বিষয়টি কেবল সেরা দলকে চিহ্নিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকরা এলো স্কোরের ভিত্তিতে বিশ্বের ২৪৪টি পুরুষ জাতীয় দলের অবস্থান ও শক্তির ভারসাম্য বিশ্লেষণ করে ফুটবলের ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু নির্ণয় করেছেন। গত এক শতাব্দীতে ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই কেন্দ্রবিন্দু মানচিত্রে ৩ হাজার মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯০১ সালে এই কেন্দ্রবিন্দুটি ছিল ইংল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের বাইরে, কারণ সে বছর কেবল ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল।

পরবর্তীতে ইউরোপীয়রা যখন পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হয়, তখন ফুটবলের বিস্তারও সেই দিকে ঘটতে থাকে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপে আমেরিকার ৯টি দল অংশ নিলেও ইউরোপ থেকে গিয়েছিল মাত্র ৪টি দল। ২০০২ সালে ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি বিশ্বকাপের অর্ধেকেরও বেশি জয় করেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। তবে এশিয়ার দেশগুলোর উত্থান এবং ইউরোপীয় দলগুলোর ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধির ফলে ফুটবলের আকর্ষণের এই কেন্দ্রবিন্দু আবারও পূর্ব দিকে ফিরে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটিরই চ্যাম্পিয়ন ইউরোপের দেশ। চলতি আসরের কোয়ার্টার ফাইনালের আটটি দলের মধ্যে ছয়টিই ছিল ইউরোপের। বর্তমানে বিশ্বের সেরা দলগুলোর শক্তির ভারসাম্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা স্পেন এবং ফ্রান্সের খুব কাছাকাছি। ফ্রান্স সেমিফাইনালে বিদায় নেয়ায় স্পেন এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফুটবলের বর্তমান ঘরটি এখন বৃটেনের তুলনায় তাদের দক্ষিণ দিকের প্রতিবেশীদের অনেক বেশি কাছাকাছি অবস্থান করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া…

14 minutes ago

টানা তৃতীয়বার বড় আসরের ফাইনালে স্পেন, বিদায় ফ্রান্সের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে টানা…

29 minutes ago

ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ সেনাসহ ৩৭ জনের প্রাণহানি

ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটি ও দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ সেনা সদস্য এবং অন্তত ৩০…

44 minutes ago

ইরানি হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতা জারি, সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ইরানের নতুন করে চালানো হামলার জেরে প্রতিবেশী কুয়েত ও বাহরাইনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দেশ…

59 minutes ago

দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে…

1 hour ago

বিশ্বকাপের মাঠের নানা মুহূর্ত ও স্মরণীয় কিছু জয়

বিশ্বকাপ ফুটবলের বিভিন্ন ম্যাচে জয়-পরাজয়ের আবেগ, খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন এবং মাঠের স্মরণীয় সব মুহূর্ত নিয়ে একটি…

2 hours ago

This website uses cookies.