
মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকেই রুহের দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক আলগা হতে শুরু করে। অথচ আমরা দিব্যি খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি, কিন্তু কিছুই টের পাই না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এতটাই দয়ালু যে, তিনি বান্দাকে খালি হাতে নিজের কাছে নেন না। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি একটি চুপচাপ ইশারা পাঠান।
এই ইশারাগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো দুনিয়ার স্বাদ হঠাৎ ফিকে লাগা। মৃত্যু ঘনিয়ে এলে মানুষের অন্তরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। যে খাবারটা কালও প্রিয় ছিল, আজ তা বিস্বাদ লাগে। যে বন্ধুদের আড্ডা ছাড়া দিন কাটতো না, হঠাৎ তাদের সঙ্গ অসহ্য মনে হয়। মন শুধু একটা কথাই বলে—কিছু একটা মিসিং। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) তাঁর 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন' কিতাবে এক বুজুর্গের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। সেই বুজুর্গ মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকে হঠাৎ চুপ হয়ে যান। পরিবার জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, জিভে দুনিয়ার কোনো খাবারের স্বাদ পাচ্ছেন না এবং মনে হচ্ছে তাঁকে অন্য কোথাও দাওয়াতের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ঠিক ৪০ দিনের মাথায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
দ্বিতীয় ইশারাটি হলো কারণ ছাড়াই চোখের পানি আসা। নামাজে দাঁড়ালে, কুরআন শুনলে, এমনকি রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলেও চোখ ভিজে যায়। দুনিয়ার কোনো কষ্ট না থাকলেও বুকের ভেতর হাহাকার তৈরি হয়। উলামায়ে কেরাম বলেন, এটা রুহের কান্না। কারণ রুহ বুঝে যায় তার দুনিয়ার সফর শেষের দিকে এবং সে তার রবের সাথে মোলাকাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আমরা হয়তো ভাবি, মন খারাপ।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইশারাটি হলো ফিরে আসার তীব্র ইচ্ছা। মৃত্যুর ৪০ দিন আগে আল্লাহ বান্দার অন্তরে তওবার একটা আগুন জ্বালিয়ে দেন। হঠাৎ মনে হয়, জীবনে কত গুনাহ করলাম! যদি আরেকটা সুযোগ পেতাম, সব শুধরে নিতাম। যদি মা-বাবার পা ধরে মাফ চাইতে পারতাম, যদি একবার সিজদায় পড়ে মন খুলে কাঁদতে পারতাম। এই ইচ্ছাটাই আল্লাহর পাঠানো শেষ ইশারা। এটি কোনো সতর্কতা নয়, বরং একটি 'মার্সি কল'। আল্লাহ চান বান্দা যেন পাক-সাফ হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে। সমস্যা হলো, ৯০ শতাংশ মানুষ এই ইশারাকে ডিপ্রেশন বা মনের ভুল ভেবে উড়িয়ে দেয় এবং দুনিয়ার কাজে আরও ডুবে যায়। তবে ১০ শতাংশ মানুষ ঠিকই বুঝে ফেলে এবং তওবা করে কাদা-মাটির দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আপনার-আমার মৃত্যুর ৪০ দিন কখন শুরু হবে, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। হতে পারে আপনি এই লেখাটা পড়ছেন, আর আপনার ৪০ দিন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, "কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে" (সূরা লুকমান: ৩৪)। তাই এই ইশারার জন্য ৪০ দিন অপেক্ষা করবেন না। আজ, এখনই, এই মুহূর্তে যদি বুকের ভেতর তওবার ইচ্ছাটা জাগে, বুঝে নেবেন এটাই আল্লাহর ডাক। উঠে দাঁড়ান, দুই রাকাত নামাজ পড়ুন, মা-বাবাকে ফোন দিন, যার হক মেরেছেন তা ফিরিয়ে দিন। কারণ আমরা কেউ জানি না আমাদের নামে আসমানে ঘোষণা কবে হয়ে যাবে। আপনি যদি চান মৃত্যুর আগে আল্লাহ আপনাকে এই ইশারা দিন, তবে পড়ুন—'আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খাতিমাহ'—যার অর্থ, হে আল্লাহ, আমাকে সুন্দর মৃত্যু দিও।
সেই ১টি ইশারা: "ফিরে আসার তীব্র ইচ্ছা" এবার আসল কথাটা শুনুন।
কুরআনে আল্লাহ বলেন: "কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে" (Quran 31:34) তাই এই ইশারার জন্য ৪০ দিন অপেক্ষা করবেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২