
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি হলো আজ শনিবার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে এটি তৈরি করা হলেও, এক বছরের মাথায় এসে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সনদের শেষ অংশে আছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ৭ দফা অঙ্গীকারনামা। গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি দল এই সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করে। সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। দীর্ঘ আট মাস আলোচনার পর ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের অংশগ্রহণে ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। যার মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত।
সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, বিএনপি তা অনুসরণ করছে না। দলটি নির্বাচনী ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কারের প্রথম দফায় বলেছে, ‘সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ বিএনপির মতে, এর অর্থ হলো জুলাই সনদ সই হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতসহ। যেখানে বলা আছে, ‘অবশ্য কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করে, তাহলে তারা সেই মতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’ ১৭ অক্টোবর সনদ সই হলেও তখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি চূড়ান্ত ছিল না। এর ভিত্তিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। এ আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার কথা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশেষ কমিটি ২৬টি দল ও জোটকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানালেও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১টি দল তাতে সাড়া দেয়নি। তারা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হতে চায় না। এদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন তারা মানবে না এবং রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
সনদের অনেকগুলো প্রস্তাবেই বিভিন্ন দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে বিএনপির নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন, এই সনদ শুধু সমঝোতার দলিল নয়, বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন পেয়েছে। তিনি বলেন, এখন কোনো দল যদি সেই জায়গা থেকে সরে আসে, তবে তা অঙ্গীকারের ব্যত্যয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২