
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজার এলাকা থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে আলম হাজারী নামের উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অথচ গ্রেপ্তার হওয়া এই নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও গোপনে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাটি বিএনপিতে বর্তমানে চলমান 'বসন্তের কোকিল' বিতর্কের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দলে টিকে থাকা ত্যাগী নেতা-কর্মীরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তাদের অভিযোগ, দুঃসময়ে যারা দলের ছায়াতেও ছিল না, সুদিন ফিরতেই তারা টাকার জোরে বা ক্ষমতার দাপটে সামনের সারিতে জায়গা করে নিচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসার মতো নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নব্য অনুপ্রবেশকারীদের নাম উঠে আসায় দলের ভাবমূর্তি সংকটের মুখে পড়ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় নব্য এই বিএনপি নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। কিন্তু তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় এবং নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা দলের তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। কর্মীরা বলছেন, নতুনদের জন্য দরজা খোলা রাখা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই সুযোগে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা দলের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
তৃণমূলের এই অসন্তোষ এখন আর ঘরোয়া আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। বঞ্চিত ও অবহেলিত কর্মীরা 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ত্যাগী ঐক্য পরিষদ' নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, গত ১৭ বছর যারা রাজপথে লাঠিপেটা খেয়েছেন, জেল খেটেছেন, তাদের জায়গা কোথায়? তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পদ পাওয়া নেতাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবার ত্যাগ স্বীকার করে দল তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, সবেমাত্র বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন, পরিবর্তনের পর সবাইকে তাৎক্ষণিক কাঙ্ক্ষিত পদ দেওয়া সম্ভব নয়, তাই ধৈর্য ধরা প্রয়োজন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মী দেড় লাখ মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি বিএনপির। এখন এই ত্যাগী বনাম নব্যদের দ্বন্দ্ব নিরসনে হাইকমান্ডের কঠোর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা মনে করছেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থায় ফাটল ধরতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২