
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরা নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি একান্তই তার নিজের। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকে অনির্দিষ্টকাল চলতে দেওয়া যায় না। যথাযথ সময়ে তিনি তার ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং কোন পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করবেন তা জানিয়ে দেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও উন্নত দেশ শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর এবং তার নিজের প্রত্যর্পণের দাবিকে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি তার নিজের এবং এটি দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়। তিনি ঢাকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার কথা অস্বীকার করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। মাথাপিছু আয় ৪৮২ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছিল ২৭৮৪ ডলার। কিন্তু এখন সেই অগ্রগতি ধ্বংস করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শিল্পখাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড করেছে। বিনিয়োগ কমেছে, কমপক্ষে দুই কোটি মানুষ বেকার হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট ফিরে এসেছে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ছয় লাখ মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তাদের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অধিকার কে দিয়েছে? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল এবং এটি টিকে থাকবে। তিনি নিয়মিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে পরিবার হারানোর পর থেকে তিনি সামরিক শাসন, স্বৈরাচার ও বারবার হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হলেও তিনি বেঁচে যান। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি ফিরতে চান।
বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা এবং তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, দেশের মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে আছে, তখন যুদ্ধবিমান কেনার পেছনে এত অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা কী? তিনি জানান, তার সময়ে তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৯ হাজার মেগাওয়াটে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু এখন মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘আরেকটি পাকিস্তান’ হওয়ার সতর্কবার্তার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো আবেগপ্রসূত বক্তব্য নয়, বরং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত একই দিকে ইঙ্গিত করছে।
সবশেষে তিনি জানান, ভারতে তিনি মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং এর জন্য ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। তিনি বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরবেন এবং সারাজীবন বিদেশে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২