
দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান সাফল্য দেখাতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, সরকার যে ৩১ দফা নিয়ে রাজনীতি করে, প্রথম ছয় মাসেই তার বাস্তবায়নের পরিবর্তে লঙ্ঘনের চিত্র দেখা গেছে। তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ছয় মাস পর এখন সরকারকে শুধু প্রতিশ্রুতির ভাষায় নয়, বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহির মানদণ্ডে মূল্যায়নের সময় এসেছে। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সেই মূল্যায়ন জাতির সামনে তুলে ধরছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নেতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি ভোট। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল এবং প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তীতে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। জামায়াতের অভিযোগ, জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কোনোটিও গত ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।
গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়ছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের আমদানি নির্ভরতার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাতারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর মার্চে বাংলাদেশকে দুটি স্পট এলএনজি কার্গো কিনতে হয়, যার দাম ছিল প্রতি MMBtu ২৮.২৮ ডলার ও ২৩.০৮ ডলার। পরবর্তীতে কাতার এনার্জি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ২০২৬ সালের এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পদোন্নতি, পদায়ন ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একসঙ্গে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্চে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের সবারই বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন বা দলীয় কাঠামোর সঙ্গে অতীত বা বর্তমান সংশ্লিষ্টতা ছিল।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও সরকারের ছয় মাসের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও টিআইবি তুলে ধরেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মার্চ-মে এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই পর্যালোচনায় মার্চ-মে ২০২৬-এ ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ৭৯৪। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো ব্যক্তিকে আইনি বা প্রশাসনিক সুবিধা না দেয়। অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক নয়; আইনের চোখে সে কেবল অপরাধের অভিযুক্ত।
পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দুর্বলতার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, সরকার ‘Bangladesh First’ পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো সুস্পষ্ট ও সমন্বিত Operational foreign-policy framework-এ রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই বলতে হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও ‘Conducive Environment’ প্রয়োজন। রোহিঙ্গা সংকটেও প্রত্যাবাসনের বাস্তব অগ্রগতি নেই বলে দাবি করেন তিনি। মিয়ানমারের প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতিও বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী জুন ২০২৬-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। জুন ২০২৫-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও এর অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের সংকট স্বীকার করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। তার দাবি, খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো নেই। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০–৩০ শতাংশ কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সরকারদলীয় হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতকে আরও অস্থিতিশীল করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংক ডাকাতির বড় ডাকাতকে মামলা থেকে বাঁচানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জোর করে নির্দেশ দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত আইনজীবী পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নতুন Prevention and Remedy of Enforced Disappearance Act, 2026 প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ১৭ জুন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা BGD 3/2026 যোগাযোগের মাধ্যমে খসড়াটির কয়েকটি বিধান নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানান। টিআইবিও মাত্র এক দিনের সময় দিয়ে অংশীজনের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত বিলের আগে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা এবং ভুক্তভোগীদের মতামত গ্রহণ করতে হবে।
সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে আট দফা আহ্বান জানায় জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে—
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ।গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত Energy Security Strategy প্রণয়ন।প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন।হত্যা, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ Foreign Policy Framework প্রকাশ।দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে ব্যাংকিং খাতে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।গুম প্রতিরোধ আইনে গোপন আটক বা অস্বীকৃত হেফাজতের সব ধরনের আইনি সুযোগ বন্ধ করে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ ও স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা নিশ্চিত করা।লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্যের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। তারা যে ৩১ দফা নিয়ে রাজনীতি করে, সেটাই তারা লঙ্ঘণ করেছে। তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে। জনগণের আস্থা শুধু বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনায় তৈরি হয় না, দৃশ্যমান ফলাফলে তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী সময়ে সরকার প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তব পরিবর্তন দেখাতে না পারলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, রফিকুল ইসলাম খাঁন এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২