
বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। তার পিতা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং এলএলবি সম্পন্ন করার পর ১৯৬১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যান এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা শুরু করে তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জিয়াউর রহমান ‘জাগদল’ গঠন করলে তিনি এর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। তিনি মোট ছয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৭৯ সালে দিনাজপুর-১, ১৯৯১ সালে ঢাকা-৯ এবং পরবর্তীতে পঞ্চগড়-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৮১ সালে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেন। একই সময় তিনি প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে তিনি ভূমি, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দেশের ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল’ প্রণয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন। এছাড়া আইন পেশায় সুনামের কারণে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি টানা পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালের ২১ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অষ্টম জাতীয় সংসদে (২০০১-২০০৯) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও সফলভাবে সংসদ পরিচালনা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন সরকারের আমলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন:গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী (১৯৮১): এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (১৯৮১-১৯৮২): প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।
ভূমি, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী (১৯৯১-১৯৯৬): বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে এসব মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২