
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন এবং নির্বাসনে থাকা দলীয় নেতাদেরও তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরার আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন, যার মাধ্যমে তাঁর টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, তিনি এবং তাঁর দলের নেতারা স্বেচ্ছায় ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি দাবি করেন, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং তিনি নিজের মাটিতেই মৃত্যুবরণ করতে চান, যেখানে তাঁর বাবা-মা সমাহিত আছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, এই ডিসেম্বরের সময়সীমাটি কেবল একটি প্রতীকী ঘোষণা হতে পারে। এটি দলের নেতা-কর্মীদের চাঙা করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো এবং রাজনৈতিক পরিসর পুনর্দখলের একটি কৌশল হতে পারে। গত ২৮ জুন এনডিটিভিকেও তিনি একই ধরনের কথা বলেছিলেন, যা এখন দলের অভ্যন্তরীণ অনলাইন সভায় আলোচনার খোরাক হয়েছে।
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীরা আত্মগোপনে চলে যান। অনেকে ভারত, যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে দেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত মে মাসে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত অনলাইনে সীমাবদ্ধ। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই তিনি বিদেশে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় কেউ উল্লেখযোগ্য সাড়া দেননি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে শত শত হত্যা মামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকার তাঁদের ফিরিয়ে আনতে ভারতকে চিঠি দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শেখ হাসিনার বক্তব্যকে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতেই দেখছে এবং ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী তাঁর বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থায় শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণাটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যারা আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশে আছেন, তারা সহজে দেশে ফিরে কারাবরণ করতে চাইবেন না। এছাড়া, শেখ হাসিনা অনলাইনে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার দাবি করলেও, গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি এখনো প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেননি। জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, তারা চান তিনি দেশে ফিরুন, যাতে ফাঁসির রায় কার্যকর করা যায়। সব মিলিয়ে, এই ঘোষণাটি বাস্তব কর্মপরিকল্পনার চেয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২