
ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে, তিনি এবং তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা জানান, তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তা দেখতে চান। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার এমনকি হত্যা করা হতে পারে, তবুও তিনি নিজের মাটিতে ফিরতে চান যেখানে তার বাবা-মা সমাহিত আছেন।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রায় ২০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ১৯৭৫ (১৯৭৫) সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের অভিযোগে তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। শেখ হাসিনা জানান, তার সঙ্গে নির্বাসনে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ দলের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও একইভাবে আত্মসমর্পণ করবেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা আদালতের নাম জানাননি।
শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে কোনো গোপন আলোচনা করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার গোপন আলোচনার বিষয় নয়। অতীতেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই কারাগারে যেতে তিনি ভয় পান না বলে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফেরা এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তারের কথা স্মরণ করেন।
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হতে পারেন এবং অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে নিতে ভারতকে বারবার চিঠি পাঠালেও তিনি নিজেই ফিরে যাবেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দলের পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করছেন এবং ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানান।
তার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্ররা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে এর আগে ভারত জানিয়েছিল, তারা প্রত্যর্পণের অনুরোধ পরীক্ষা করছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। দীর্ঘ শাসনামলে ভিন্নমত দমন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগ থাকলেও শেখ হাসিনা তা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, কোনো সরকারের ভুল হতে পারে, কিন্তু সেই ভুল বা ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। তিনি তার দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিচারের ভার জনগণের হাতেই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২