
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পাস করা সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইনটি নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট ও মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন অংশ নেয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি মেটার (ফেসবুক) মতো সামাজিক মাধ্যম জায়ান্টদের মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদমের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। প্ল্যাটফর্মগুলোর আর্থিক মুনাফার জন্য সংঘাত ও সহিংসতাকে বেশি প্রচার করার প্রবণতা রয়েছে, অথচ যৌক্তিক আলোচনা সেন্সর করা হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার এই অশুভ আঁতাত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে নিউজ পেপার্স ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দয়া করে গণমাধ্যমের হাত পুনরায় বাঁধবেন না। তিনি সতর্ক করে বলেন, হাত বেঁধে দিলে সরকারেরই ক্ষতি হবে এবং ক্ষমতার চিরস্থায়ী প্রকৃতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত। প্রস্তাবিত আইনটির প্রয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডেইলি স্টার সম্পাদক শফিকুল আলম সামাজিক মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ২০১২ সালে রামুতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যা এবং সম্প্রতি ফেসবুকে সংঘবদ্ধ মব তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহার স্পষ্ট ছিল।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, আইনটি দেখে মনে হচ্ছে এটি কেবল ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে ফেলার বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তির ভুল বা অপরাধের জন্য পুরো মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার বিধান নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বৈঠকে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২