
রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার ফলে পথচারীদের চলাচলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। মিরপুর-১০, মিরপুর-১, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে আগে দোকানপাট ও মালামালের কারণে হাঁটাচলা করা কঠিন ছিল, যা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। অতীতে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযানের পরও ফুটপাতগুলো আবারও দখল হয়ে যাওয়ার নজির থাকায় মিরপুরের এই সাফল্য ধরে রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।
মিরপুরের এই পরিস্থিতির পাশাপাশি এখন মোহাম্মদপুর ও আজিমপুরের দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত উদ্ধারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গত ১০ অক্টোবর জানিয়েছেন যে, মোহাম্মদপুরের ফুটপাতগুলোও মিরপুরের আদলে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আজিমপুরে কবে নাগাদ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি এখনো পাওয়া যায়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত কেবল চলাচলের পথ নয়, এটি নগরবাসীর নিরাপত্তার একটি মৌলিক পরিসর। বর্তমানে ঢাকার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ফুটপাত কোনো না কোনোভাবে দখলে রয়েছে। এর ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামছেন, যা দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য দখলদারদের পেছনে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা উন্নত বিশ্বের মতো হকার জোন গড়ে তোলা, নাইট মার্কেট চালু করা এবং সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসার সুযোগ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, হকার উচ্ছেদ করেই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাবে না। হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে এবং যারা ফুটপাত দখলকে পেশা হিসেবে ব্যবহার করে, সেই প্রভাবশালী চক্রকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও বিদ্যুৎ অফিসের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অফিসের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য ডিএনসিসি ইতিমধ্যে পর্যবেক্ষক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, মোহাম্মদপুর ও আজিমপুরসহ পুরো রাজধানীজুড়ে ফুটপাত দখলমুক্ত থাকবে এবং এই কার্যক্রম কেবল অভিযান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী রূপ পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২