
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনে আমজাদ হোসেন নামের এক বহিরাগত ব্যক্তির দাপট নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে ইউএনও অফিসের একজন অফিস সহকারীকে মোবাইল কোর্টের পেশকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া থাকলেও, বাস্তবে সেই কাজটি করছেন আমজাদ। তিনি সরকারি দপ্তরের অফিস সহকারীর চেয়ারে বসে অবলীলায় দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে মাজারের কর্মচারী আমজাদের এই রাজত্ব গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী ইউএনওদের আনুকূল্য পেয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও ইউএনও’র বাংলোতে নিয়মিত বিচরণ করেন, যা কর্মকর্তাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমজাদ হোসেন সীমান্তবর্তী রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল আলীর সন্তান। প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী, অফিস সহকারী মো. বদরুজ্জামানকে ডিসি অফিস থেকে মোবাইল কোর্টের পেশকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় না। আমজাদ ইউএনও’র ইচ্ছানুসারে কাজ করেন এবং ডিসি অফিস থেকে পেশকারের কাজের বিলও তিনিই তুলে নেন। ২০১৭ সালে তৎকালীন ইউএনও শামছুজ্জামান তাকে খড়মপুর কেল্লা শহীদ মাজারের অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেন। ইউএনও মাজার কমিটির সহ-সভাপতি এবং ডিসি সভাপতি হওয়ায় আমজাদের তখন থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এছাড়া ২০১৫ সালে তিনি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির অফিস সহকারী হিসেবেও নিয়োগ পান। মাজার থেকে ২১ হাজার এবং শিল্পকলা থেকে ৩ হাজার টাকা সম্মানী পান তিনি।
২০২৪ সালের ৩০শে জুন গাজালা পারভীন রুহি এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৯শে আগস্ট অতীশ দর্শী চাকমা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমজাদের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। অতীশ দর্শী চাকমার সময়ে পুকুরের মাছ ধরাসহ নানা অনিয়মে আমজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বর্তমান ইউএনও তাপসী রাবেয়া যোগ দেওয়ার পর আমজাদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকারির দায়িত্ব পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি থেকে মাটি কাটা, ড্রেজার চালানো এবং ভূমি অফিসের কাজেও আমজাদের প্রভাব রয়েছে। এমনকি জ্বালানি তেলের সংকটের সময়েও তেল ব্যবসায়ীদের তার কাছে ধরনা দিতে দেখা গেছে।
মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু জানান, আমজাদ ৭/৮ বছর ধরে মাজারে কাজ করছেন এবং ইউএনও অফিসে তার ফাইল সংক্রান্ত যাতায়াত রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, আমজাদ শিল্পকলার জন্মলগ্ন থেকেই অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরজমিনে তথ্য মিলে ইউএনও সভাপতি এমন ৯টি বা ১২টি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী পদে চাকরি করছেন আমজাদ।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, মাজারের চাকরিটি তার ব্যক্তিগত এবং উপজেলার কাজটি পার্টটাইম। তিনি কেবল ফাইল আনা-নেওয়ার কাজ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে পেশকারির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, এটি স্যারের পেশকাররা দেখেন। ইউএনও তাপসী রাবেয়া জানান, মাজারের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি আমজাদের সঙ্গে কাজ করেন এবং আদালত পরিচালনার সময় প্রয়োজন হলে আমজাদ সেখানে উপস্থিত থাকেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২