
দীর্ঘ বিরতির পর গত ৮ ও ৯ই অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় কোনো পক্ষই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধাগুলো নিরসনের প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সর্বশেষ এই কর্মদলের বৈঠক হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে সৃষ্ট টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তবে আলোচনায় উভয় পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং নিজ নিজ দাবির বিষয়ে অনড় থাকায় কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে ভারত বাংলাদেশে ফল, চাল, লোহা ও ইস্পাত রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। দেশটি ভারতীয় তুলা রপ্তানির বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক তালিকা চালু এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত হাট, সমন্বিত চেকপোস্ট ও স্থল শুল্ক স্টেশনগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহার বা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা ভারতের মান নির্ধারণকারী সংস্থার সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, পণ্যের মানসংক্রান্ত বিধিবিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় তুলেছে। পাশাপাশি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সড়ক ও গুদাম অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা ইতিবাচক। তবে বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং বাণিজ্য ঘাটতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে যাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২