
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১ বছর পর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম সরাসরি সম্প্রচারিত ঘটনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, অনলাইনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখানো হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে ভীতিপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অনেকে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নিদাল হাসানের আইনি পরামর্শদাতা ও বেসামরিক আইনজীবী জন গ্যালিগান জানিয়েছেন, পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি হাসানকে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখের কথা জানিয়েছেন। গ্যালিগানের মতে, পুরো বিষয়টিকে একটি ‘কার্নিভালের’ মতো উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা পুরোনো দিনের গণপিটুনির মানসিকতার কাছাকাছি।
ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা নিদাল হাসান ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিরস্ত্র ১৩ সেনাকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। বিচার চলাকালে ২০১৩ সালে তিনি দাবি করেছিলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে মুসলমান ও তালেবানকে রক্ষা করতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছিলেন। হামলায় নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন।
এদিকে, জাতিসংঘ এই পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজাররিক বলেন, কোনো সরকার প্রকাশ্যে বা সরাসরি সম্প্রচারিত ক্যামেরার সামনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে—এমনটি জঘন্য। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, সরাসরি সম্প্রচারিত মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, গত বছর বিশ্বের ১৭টি দেশে দুই হাজার ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুটি দেশে। ২০২৫ সালে ইরান ও আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়া গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২