
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের অকথ্য নির্যাতনের মুখে ইসরাইলি সেনাদের নীরব ভূমিকা পালনের জেরে বসতিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বৃটেন। এই ঘটনা এবং পরবর্তী কিছু পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। এর জের ধরে ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ জন বৃটিশ কূটনীতিক। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। অনলাইন টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমে বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল আর আগের কাঠামোয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। কনসাল জেনারেলসহ সেখানে কর্মরত ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ত্যাগ করবেন। তবে কনস্যুলেটের ভবনটি বৃটিশ সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখা হবে। সেখানে মাত্র সাতজন কূটনীতিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভবনটি আর কনস্যুলেট হিসেবে কাজ করবে না। ইতোমধ্যে ভবনটি থেকে ‘বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল’ এবং কনস্যুলার বিভাগের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সা’আর বলেন, আমরা একটি স্পষ্ট নীতি প্রতিষ্ঠা করেছি—ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইসরাইল তা মেনে নেবে না।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বৃটেন চাইলে সে দেশে কর্মরত ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করতে পারত। তবে নতুন সমঝোতার কারণে লন্ডনে কর্মরত ইসরাইলি কূটনীতিকদের সবাইকে নিজ নিজ পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইল সরকারের রয়েছে—এমনটি আমরা মেনে নেব না। পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড এবং বৃটিশ সরকার তাদের এই দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও পুনর্ব্যক্ত করছে।
এড মিলিব্যান্ড আরও জানান, এখন থেকে এই কনস্যুলেটের নাম হবে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে। কর্মীদের ইসরাইল থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি একটি সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনর্গঠনে কাজ করবে লন্ডন। আলোচনা চলাকালে কোনো ধরনের ‘পারস্পরিক পাল্টা পদক্ষেপ’ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। মিলিব্যান্ড আরও বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে গত ৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছিল, বৃটেন সেগুলোর প্রতি দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২