
ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, ভালোবাসা আর অদম্য লড়াইয়ের এক মহাকাব্য। আর এই মহাকাব্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্রটির নাম লিওনেল মেসি। তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ কোটি ফুটবলপ্রেমী তাঁকে শুধু গোল বা ট্রফির জন্য ভালোবাসেন না, ভালোবাসেন তাঁর হার না মানা মানসিকতার জন্য। মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে শারীরিক বৃদ্ধিসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। হরমোন থেরাপির ব্যয়বহুল খরচ মেটাতে যখন পরিবার হিমশিম খাচ্ছিল, তখন পাশে দাঁড়িয়েছিল বার্সেলোনা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক অবিশ্বাস্য অভিযাত্রা।
বার্সেলোনার হয়ে সাফল্যের চূড়া ছুঁলেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মেসির শুরুটা ছিল এক দুঃস্বপ্ন। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। পুসকাস অ্যারেনায় ম্যাচের ৬৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মাথায় হাঙ্গেরির ভিলমোস ভাঙ্কজাককে অনিচ্ছাকৃত কনুই মারার দায়ে লাল কার্ড দেখেন তিনি। তবে এই দুঃস্বপ্নের রাতই ছিল ফুটবলের এক নতুন ইতিহাসের সূচনা। ২০০৬ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে তাঁর, যেখানে গোল করে আর্জেন্টিনার কনিষ্ঠতম গোলদাতা হন তিনি। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে নাইজেরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য হিসেবে স্বর্ণপদক জেতেন মেসি।
২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পাওয়ার পর তাঁর কাঁধে চেপে বসে প্রত্যাশার বিশাল চাপ। কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১১ কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা, যেখানে মেসির পা থেকে কোনো গোল আসেনি। ফলে বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ২৪ বছর বয়সে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। কিন্তু মারাকানার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটশের গোলে জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গ হয়। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে তীব্র যন্ত্রণায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা।
তবে অবসরের সিদ্ধান্ত ভেঙে রাশিয়া বিশ্বকাপের আগেই ফিরে আসেন মেসি। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে দলকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিলেও শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। অবশেষে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে ঘুচে যায় আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা খরা। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েন তিনি। এরপর ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি নিজের করে নেন মেসি। আসরে সাতটি গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। এর দুই বছর পর ২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ট্রফি ধরে রাখার মিশনে আবারও নেতৃত্ব দেন মেসি। দলকে ফাইনালে তুললেও স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপে ২১ গোল করে নতুন ইতিহাস গড়লেও পরে ২২ গোল নিয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন কিলียน এমবাপ্পে। এই পরাজয়ের বেদনার মাঝেই ৮ই আগস্ট বাবা হোর্হে মেসিকে হারান তিনি। বাবার মৃত্যুর ২৩ দিন পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তবে প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো দেখতে চাওয়ায় বেনিনের বিপক্ষে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলেন তিনি। ৪৪ সেকেন্ডের লাল কার্ড দিয়ে শুরু হওয়া এক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল ট্রফি আর অমরত্বের সোনালী অধ্যায়ে। মাঠ থেকে বিদায় নিলেও মেসির ফুটবল জাদু চিরকাল বেঁচে থাকবে ভক্তদের হৃদয়ে।
২০১৮-২১: প্রত্যাবর্তন ও দায় মোচনরাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবসর ভেঙে ফিরে এলেন মেসি। বিশ্বকাপে খেলতে হলে শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয় প্রয়োজন ছিল আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচে গোল করে দলকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেন তিনি। রাশিয়ায় শেষ ষোলোয় বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপের হতাশা তখনো কাটেনি। কিন্তু মেসির গল্পে এবার নতুন অধ্যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২