
অফিসে রাফিদ কম্পিউটার খুলতেই তানভীর তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। তানভীরের মনে প্রশ্ন ছিল, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে 'ক্লিক'-এর পরের ধাপ 'ভিউয়াবিলিটি' বলতে আসলে কী বোঝায়। রাফিদ তাকে বোঝালেন যে, একটি ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন লোড হওয়া এবং রিপোর্টে ইমপ্রেশন গণনা হওয়া মানেই ব্যবহারকারী সেটি দেখেছেন—এমনটি নিশ্চিত নয়। অনেক সময় বিজ্ঞাপন পেজের একেবারে নিচে থাকে অথবা ব্যবহারকারী বিজ্ঞাপনটি স্ক্রিনে আসার আগেই পেজ ছেড়ে চলে যান। ফলে টেকনিক্যালি বিজ্ঞাপনটি সার্ভ হলেও তা ব্যবহারকারীর চোখের সামনে দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই ইমপ্রেশন আর ভিউয়াবিলিটি এক নয়; ইমপ্রেশন কেবল পরিবেশন নির্দেশ করে, আর ভিউয়াবিলিটি নিশ্চিত করে বিজ্ঞাপনটি দেখার মতো অবস্থানে ছিল কি না।
রাফিদ রিপোর্টের আরেকটি অংশ দেখিয়ে বললেন, এখানেই অ্যাডপসের গুরুত্ব। শুধু বিজ্ঞাপন সার্ভ হয়েছে কি না তা দেখলেই হয় না, বরং বিজ্ঞাপনটি সঠিক জায়গায়, সঠিক পরিবেশে এবং প্রত্যাশিতভাবে দেখা যাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হয়। তানভীর জানতে চাইলেন, ভিউয়াবিলিটি ভালো হলে কি ক্যাম্পেইন সফল? রাফিদ তখন রিপোর্টের আরেকটি ট্যাব খুলে ব্র্যান্ড সেফটির বিষয়টি সামনে আনলেন। তিনি ব্যাখ্যা করলেন, বিজ্ঞাপন ঠিকমতো দেখা গেলেও যদি তা এমন কোনো ওয়েবপেজে প্রদর্শিত হয় যা ব্র্যান্ডের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, তবে তা ক্যাম্পেইনের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
কথপোকথনের এক পর্যায়ে ভুয়া ট্রাফিকের বিষয়টি উঠে আসে। রাফিদ জানান, রিপোর্টে হাজার হাজার ইমপ্রেশন বা ক্লিক দেখা গেলেও যদি তা মানুষ থেকে না আসে, তবে সেই সংখ্যার প্রকৃত মূল্য কমে যায়। অবৈধ বা কৃত্রিম কার্যক্রমের মাধ্যমে ইমপ্রেশন বাড়ানো সম্ভব, তাই ট্রাফিক ও ডেলিভারি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। রাফিদ একটি সফল ক্যাম্পেইনের মূল্যায়নের জন্য ইমপ্রেশন, ভিউয়াবিলিটি, ক্লিক, ট্রাফিকের উৎস এবং অস্বাভাবিক অ্যাকটিভিটি—সবকিছুর ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে রাফিদের ইনবক্সে ক্লায়েন্টের একটি মেইল আসে, যেখানে ক্যাম্পেইন পারফরম্যান্স রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রাফিদ কাজ শুরু করে বললেন, ভালো অ্যাডপস মানে শুধু বিজ্ঞাপন চালু করা নয়। ক্যাম্পেইন শুরুর আগে কনফিগারেশন পরীক্ষা, চলাকালে ডেলিভারি মনিটর করা, সমস্যা হলে ট্রাবলশুটিং করা এবং শেষে নির্ভরযোগ্য ডেটা দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা—সবই এর অংশ। তানভীর উপলব্ধি করলেন, বিজ্ঞাপন কেবল একটি ছবি, ভিডিও বা ব্যানার নয়; এর পেছনে প্রযুক্তি, ডেটা, নিয়ম এবং মানুষের সমন্বিত কাজ রয়েছে। রাফিদ শেষে বললেন, একজন পাঠক যখন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখেন, তিনি কেবল বিজ্ঞাপনটিই দেখেন, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে একটি বিশাল অদৃশ্য ইকোসিস্টেম। অ্যাডপস নীরবে কাজ করে যায় যেন এই ইকোসিস্টেমটি ঠিকভাবে কাজ করে এবং সংখ্যাগুলো যেন বিজ্ঞাপনের আসল গল্পটাই বলে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২