
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো ব্যক্তিকে তার পেশাগত পরিচয়ের কারণে আসামি করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম। রবিবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও চলমান তদন্ত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরণের বৈষম্য বা নির্বিচার সাজা দেওয়া হচ্ছে না।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে একশ্রেণির সাংবাদিক তথ্য বিকৃত করে অপরাধকে প্ররোচিত করেছিলেন এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। তিনি জানান, কারো পেশা সাংবাদিক হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের পর সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেও আইন অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঢালাওভাবে সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং আসামিরা আদালতে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ আইনি সুযোগ পাবেন।
সাজা ও রায়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে ট্রাইব্যুনালে কনভিকশন রেট ৯৯ শতাংশের বেশি এবং মৃত্যুদণ্ডের হার প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল অপরাধভেদে ৩ বছর, ৭ বছর, ১০ বছর, যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছেন। প্রসিকিউশন যেসব রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি, যেমন শেখ হাসিনার মামলার একটি অংশে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও হাসানুল হক ইনুর মামলার রায়ের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে কিংবা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়, দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর সারা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। দলের কার্যক্রম জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় তদন্ত সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এছাড়া আমির হোসেন আমু, ডা. দীপু মনি, ফারুক খান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ গ্রেপ্তার নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের বিষয়ে জানানো হয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তার মূল দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২