Header Premium (728×90)

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আইনি ও সুসংগঠিত: দীনেশ ত্রিবেদী

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি একটি আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ‘বে অফ বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এক সেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এরই মধ্যে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। যেহেতু বিষয়টি আইনি ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাকে ভারতে নিয়ে আসেনি। তৎকালীন বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, সেই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারত এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি নিজেও তখন টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখেছিলেন যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং পরিস্থিতির বাস্তবতায় ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পৃথিবীর কোথাও যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। ভারত যদি তাকে গ্রহণ না করত বা অবতরণের অনুমতি না দিত, তবে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা বলা কঠিন ছিল।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বোঝেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না এবং বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল লেনদেনভিত্তিক নয়, বরং এর সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি অটুট রয়েছে এবং মতপার্থক্য গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। যেকোনো সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ, পরামর্শ ও পারস্পরিক যোগাযোগ, যার ভিত্তি হলো আস্থা। একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

Recent Posts

গণভোটকে অবৈধ বললে বিএনপি সরকারও অবৈধ হবে: মামুনুল হক

একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন গ্রহণ করে গণভোট প্রত্যাখ্যান করা গ্রহণযোগ্য…

18 minutes ago

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের ৩ মাসে ফের পরীক্ষার সুযোগের চিন্তা সরকারের

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ…

21 minutes ago

দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল হওয়ার পথে বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে…

23 minutes ago

সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে মোদি সরকারের গোপন নজরদারি ও ধরপাকড়

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশনায় রাজ্যগুলোতে শুরু হয় কঠোর নজরদারি ও…

31 minutes ago

নির্ভরশীলতা নয়, অংশীদারত্বে বিশ্বাসী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ আর কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ও…

42 minutes ago

আফগানিস্তানের ভালো শুরু, আব্দুল মালিকের ব্যাটে ফিফটি

বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পেয়েছে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি…

1 hour ago

This website uses cookies.