
নিউইয়র্কের অভিজাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন অসদাচরণ ও নিপীড়নের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাসেম্বলি আয়োজিত এক জনশুনানিতে এই বিষয়টি উঠে আসে। ২০২৪ সালে একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) সদস্যদের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলার ঘটনাটি পুরো ক্যাম্পাসকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে।
জনশুনানিতে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোফিয়া রাইলি সিম অভিযোগ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব, প্রশাসক ও শিক্ষকদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অর্থবহ যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অভিযোগের পর ব্যাপক তদন্ত চালিয়েছে এবং অভিযুক্ত চি ফাই ভ্রাতৃসংঘকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করেছে। বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করলেও, শিক্ষার্থীরা এর স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দিহান। জনশুনানিতে অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন।
২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি জরিপ অনুযায়ী, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ৩৫ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থী জোরপূর্বক বা শারীরিকভাবে অক্ষম অবস্থায় সম্মতি ছাড়া যৌন সংস্পর্শের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা ২০২১ সালে ছিল ২০ শতাংশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভ্রাতৃসংঘের সদস্যরা ওই তরুণীকে নিপীড়নের আগে অ্যালকোহল, গাঁজা ও কেটামিন সরবরাহ করেছিল। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেবল প্রবন্ধ লেখানোর সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, প্রবন্ধ লেখাই একমাত্র শাস্তি ছিল না।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা বিষয়টিতে নজর দিয়েছেন এবং তদন্তের জন্য একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ করেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে প্রতিটি মামলার ফলাফল নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
শুনানির আয়োজকরা কয়েক ডজন বক্তার অনেককেই পরিচয় প্রকাশ না করতে এবং তাদের বক্তব্য রেকর্ড না করতে অনুরোধ করেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, কর্নেলে ভর্তি হওয়ার জন্য তিনি সারা জীবন পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে, সেই পরিশ্রমের মূল্য পাওয়া যায়নি। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলে অবস্থিত ২ হাজার ৩০০
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২