
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পারাপারের অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য তিক্ততার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নেপালগামী তিন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীকে ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে যে অবমাননাকর আচরণ ও মানসিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে, তা জাতীয় পর্যায়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত ৮ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সোহানী ইসলাম সমাপ্তি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিফা তামান্না এবং দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নাজনীন বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও ফিরতি টিকিট থাকা সত্ত্বেও নেপালগামী বিজি ৩৭১ ফ্লাইটে উঠতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে যে, ইমিগ্রেশন পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি বা প্রশাসনিক আদেশ ছাড়াই তাঁদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেন। শুধু তাই নয়, ওই কর্মকর্তা তরুণীদের অভিভাবকদের ফোন করে অযৌক্তিক প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁদের বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। এই ধরনের আচরণকে কেবল পেশাদারিত্বের অভাব নয়, বরং চরম পুরুষতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী তিন তরুণী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। আদালত ইমিগ্রেশন পুলিশের বিভাগীয় প্রধান তথা অতিরিক্ত আইজিপিকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ওই তরুণীদের বিদেশযাত্রায় বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার পদক্ষেপ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে অবিবাহিত হওয়া বা অভিভাবকের অনুপস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে বাধা না দেওয়া এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের সমঅধিকার, চলাফেরা ও দেশত্যাগের যে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, এই ঘটনা সেগুলোর পরিপন্থী। বর্তমান সরকার যখন নিজেকে উদার ও প্রগতিশীল হিসেবে তুলে ধরছে, তখন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে এমন আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ এবং স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠেছে, যাতে কোনো যাত্রীই ব্যক্তিগত মর্জি বা অদক্ষতার শিকার না হন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২