যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পরপর দুই দফা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন ৫০ বছর বয়সী নারী বন্দি ক্রিস্টা পাইক। গত বুধবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে পেন্টোবারবিটালসহ মারাত্মক রাসায়নিকের দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে।
পাইকের আইনজীবীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আদালতে একটি জরুরি আবেদন জমা দেন। তারা জানান, রাসায়নিক প্রয়োগের পর পাইক অচেতন হয়ে পড়লেও তার হৃদস্পন্দন সচল ছিল এবং তাকে নাক ডাকতে শোনা যাচ্ছিল। আদালতের তাৎক্ষণিক নির্দেশে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। টেনেসির প্রায় দুইশত বছরের ইতিহাসে কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম উদ্যোগ ছিল এটি। এই ব্যর্থ ও বিতর্কিত ঘটনার পর রাজ্যের গভর্নর বিল লি একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চলতি বছরে টেনেসিতে নির্ধারিত অন্যান্য সকল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া জুড়েই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে পাইকের শ্বাস-প্রশ্বাস সচল ছিল। একপর্যায়ে তিনি কারারক্ষীদের দিকে সরাসরি তাকিয়ে ইনজেকশনের অনুভূতি কেমন হতে পারে তা জানতে চান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের কক্ষের পর্দা টেনে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। টেনেসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার ইনজেকশনে মৃত্যু না হলে দ্বিতীয়বার ইনজেকশন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফার পরও যদি কোনো বন্দি জীবিত থাকেন, তবে কী করা হবে সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।
এর আগেও চলতি বছরের মে মাসে টেনেসিতে টনি ক্যারাথার্স নামের এক বন্দির মৃত্যুদণ্ড শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় তার শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার মতো কোনো উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তবে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তারা প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। অন্যদিকে, পাইকের আইনজীবীরা রাজ্যের প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে এতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।
ক্রিস্টা পাইকের এই মামলার ইতিহাস বেশ পরিস্থিতিভিত্তিক ও পুরনো। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার দায়ে দোষী sabastha হন পাইক। ১৯৯৬ সালে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে স্লেমারের সাথে পরিচয়ের পর প্রেমঘটিত বিরোধ এবং অপমানের জেরে পাইক ও তার সহযোগী তাদারিল শিপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। তবে সহযোগী শিপের বয়স সে সময় ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।
পাইকের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, শৈশবে তার ওপর চালানো যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ এবং তার মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যাগুলো বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। সম্প্রতি তার প্রাণভীক্ষার আবেদনও গভর্নর প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পাইক তার আত্মিক উপদেষ্টাকে কবি এডগার অ্যালান পোয়ের একটি কবিতার হাতে লেখা অংশ পাঠিয়েছিলেন এবং এক চিঠিতে লিখেছিলেন যে তিনি মৃত্যুকে ভয় না পেলেও এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
এদিকে, এই ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেয়েকে হারানোর বেদনা তার জীবনের প্রতিটি দিনকেই গ্রাস করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নারী বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল, আর পাইকের এই ঘটনার পর প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন…
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নিজ বসতঘরের চালের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় আলাল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের…
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষক ও কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও…
ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে এক মাসের কারাদণ্ড…
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির চাহিদা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ৬০০ চিংড়িচাষিকে নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।…
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।…
This website uses cookies.