
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শত শত লোক নিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সাতমসজিদ হাউজিং সংলগ্ন গাবতলী-সদরঘাট বাইপাস সড়কের পাশে একটি বিট পুলিশিং অফিসের সামনেই কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের এই চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় দেড় থেকে দুইশত লোক মিছিলের মতো করে এসে সীমানার বাঁশের দড়ি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। হামলাকারীরা ওই জমিতে থাকা আবাসনের দুইতলা বিশিষ্ট অফিসে উঠে সিসি ক্যামেরা, লোহার গ্রিল, টেবিল, চেয়ার, আলমারি ও বাথরুম ভাঙচুর করে। আলমারিতে থাকা জমির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র মেঝেতে ফেলে পানি ঢেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা টিন ও বাঁশ দিয়ে পুরো জায়গাটি ঘিরে ফেলে। ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর ও যুবকেরা এসি, ল্যাপটপ ও ফ্রিজ মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে। হামলার সময় নগদ ১৫ লাখ টাকা, জমির দলিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজিদা বেগম জানান, হামলার সময় তিনি বাড়ির পাশেই বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ দুই-তিনশ লোক গালিগালাজ করতে করতে এসে হামলা চালায় এবং সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলে। আশেপাশের বাড়ির বাসিন্দারা জানালা দিয়ে উঁকি দিলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। জহির নামের এক প্রতিবেশী ফোনে কথা বলার সময় ভিডিও করার সন্দেহে তাকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী জহির বলেন, বারবার অনুরোধ করার পরও তারা আমার কথা শোনেনি এবং আমাকে মারধর করেছে। তিনি জানান, মূলত এই জমিটি ২০০৬ সালে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আলম হোসেনের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। সম্প্রতি হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তি এটি কিনে আরও ২৯ জনের কাছে শেয়ার বিক্রি করেন, যার মধ্যে ৯ জন প্রবাসী রয়েছেন। সেখানে একটি শপিংমল ও আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। জহির অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় ছাত্র, যুব ও মূল দলের নেতাকর্মীরা ছিল এবং তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সেলিম মোল্লা। ঘটনার সময় পুলিশকে ফোন করা হলেও কেউ আসেনি।
লন্ডন প্রবাসী শেয়ারহোল্ডার রবিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসে কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে দেশে ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় এই জমি কিনেছিলেন। কিন্তু দেশের এই পরিস্থিতিতে তারা এখন কোথায় যাবেন তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় বিচার চেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. জয়নাল আবদিন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের ৮ নম্বর বাসার পাশে তার মায়ের মালিকানাধীন ১১ কাঠা জমি এবং হুমায়ুনের জমিটি মো. মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী (৬২), স্থানীয় মহিন, প্রিন্স, আলামিনসহ দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। অভিযুক্তরা ২০২২-২৩ সালের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ঘটনাস্থলের ঠিক সামনে থাকা বিট পুলিশিং অফিসটি ঘটনার পর ফাঁকা পাওয়া যায়। দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদপুর থানার এসআই রাজুর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোহাম্মদপুর ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মোল্লা হামলার ঘটনা ও তার উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২