
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৫৫
তীব্র প্রশাসনিক স্থবিরতা ও সীমাহীন অনিয়মের কারণে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (নিমকো)। অতীতে দক্ষ প্রশাসক ও প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির যে সুনাম ছিল, বর্তমানে তা নিম্নমুখী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অদূরদর্শিতা, অপেশাদারিত্ব ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে, যা এর ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সব স্তরে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নেই এবং অযত্ন-অবহেলায় সেগুলো নষ্টের পথে। নিমকোর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণার্থী সংকট ছাড়াও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন এই প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অদক্ষতায় তা মারাত্মক স্থবির হয়ে পড়েছে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত অর্থবছরে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রায় ৫০ শতাংশ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। কোর্স সংখ্যা কমাতে দপ্তর বা মাঠপর্যায় থেকে প্রশিক্ষণার্থী না পাওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ে ভুল তথ্য পাঠানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (ডিজি) মুহম্মদ হিরুজ্জামান ‘টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ সেশন চালুর নামে নিজেই সম্মানী হিসেবে প্রায় ছয় লাখ টাকা তুলেছেন, যা নিয়ে আর্থিক সুবিধার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকার পুরস্কারের বাজেট বাদ দেওয়া এবং প্রকাশনা ও সফটওয়্যারসংক্রান্ত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভৌত সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণেও চরম উদাসীনতা দেখা গেছে। কোরিয়ান অনুদানে পাওয়া কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক শুটিংভ্যানটি দীর্ঘ সময় পার হলেও বিআরটিএ কর্তৃক নিবন্ধন করা হয়নি। ভ্যানটি এক দিনের জন্যও ব্যবহার না করে মূল গেটের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে, যা নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ও লিফট অকেজো থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অদক্ষ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় যোগাযোগ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত দুই মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি ছড়াতে অন্তত ২০টি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিজিকে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
আমার দেশ-এর হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের ডিজি মুহম্মদ হিরুজ্জামান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা/সেমিনার এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বাবদ প্রায় ছয় লাখ টাকা সম্মানী নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের ভৌত সম্পদ ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে চরম উদাসীনতা ও অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। কোরিয়ান অনুদানে এসআইবিই-নিমকো প্রকল্পের আওতায় স্টুডিও যন্ত্রপাতি, মিডিয়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং একটি আধুনিক শুটিংভ্যানসহ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি অনুদান হিসেবে পাওয়া যায়। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২