
‘ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচাওরে সবুজ ওরে অবুঝআধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ রবীন্দ্রনাথের এই চিরন্তন আহ্বান যথার্থই তরুণদের প্রতি ছিল, যারা প্রবীণ অথবা নির্জীবদের জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখে। ইতিহাস সাক্ষী, এই উপমহাদেশে তরুণরাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল, ক্ষুদিরাম বসু, প্রীতিলতা থেকে মাখন লাল পর্যন্ত অসংখ্য নাম তারুণ্যের দীপ্ততা প্রমাণ করে। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণরাই হাসিমুখে জীবন বিলিয়ে দিয়েছে, তাদের নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যায়।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে প্রায়শই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যাই যে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, তা চীন ও ভারত প্রমাণ করেছে। এই জনশক্তিকে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনহিতকর কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নতিকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব। একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশ পৃথিবীর সেই দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশের অধিকাংশ মানুষই তরুণ, যাদের বয়স ২২ থেকে ৪২-এর মধ্যে। এই তরুণ সমাজের আধিক্যই সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষের বয়স ২৯ বছরের কম। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠীই তরুণ প্রজন্মের। রাস্তায়, মিছিলে-মিটিংয়ে বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাঁটলে এই সত্য সহজেই চোখে পড়ে। যে দেশের জনসংখ্যার এত বড় অংশ তরুণ, সেই দেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না, কারণ একটি জাতির শক্তি তার তরুণদের সংখ্যা ও সামর্থ্যের গুণফল।
আজকের তরুণরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী ও স্বপ্নবাজ। তারা কেবল চাকরির পেছনে ছোটে না, বরং নিজেরাই কিছু একটা করতে চায়। কেউ ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করছে, কেউ ব্যবসা শুরু করছে, আবার কেউ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হয়ে ঘরে বসেই কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। দেশ যে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা এই তরুণদের কঠোর পরিশ্রমেই সম্ভব হচ্ছে।
তবে এই উন্নতির পথ কখনোই সহজ ছিল না। চাকরির বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতা এবং কর্মক্ষেত্রের সুযোগের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এত বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। অনেক মেধাবী তরুণ-তরুণী চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে বিদেশে উন্নত জীবন গড়তে পাড়ি জমাচ্ছে। এই মেধাগুলো যদি দেশে কাজে লাগানো যেত, তবে দেশের জন্য আরও ভালো হতো। বিভিন্ন সেক্টরে মেধাবীদের খুবই প্রয়োজন, তাই সরকারের উচিত তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের কাজে লাগানো।
এই দেশের তরুণরা যখন একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন তারা কতো বড় কিছু করে ফেলতে পারে, তার প্রমাণ আমরা অতীতেও দেখেছি। রাস্তায় নেমে ট্রাফিক সামলানো থেকে শুরু করে বন্যার সময় নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া, কিংবা যেকোনো অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে তারা পিছপা হয়নি। এই তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তরুণদের সবচেয়ে বেশি দরকার সুযোগ। বড়রা যদি একটু হাত বাড়িয়ে দেয়, তাদের কাজ করার ও শেখার জায়গা করে দেয়, তাহলে এই তরুণরাই দেশটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই বিপুল জনশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নতি নিশ্চিত। তাই এখনই সময়, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করার।
একটি দেশ ততটাই এগিয়ে যায়, যতটা তার তরুণরা এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যে আগুন ও জেদ আছে, তা যদি সঠিক পথে চালিত করা যায়, তাহলে এই দেশ একদিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সামনে গর্বের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াবে। তরুণরাই বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশই তরুণদের। এই সম্পর্কটা যত মজবুত হবে, দেশটাও তত সুন্দর হবে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২