
ভারতে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে বিতর্ক এবার রাজধানী দিল্লিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় নথিপত্রের ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’র অজুহাতে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এল.কে. আদভানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়সহ একাধিক ভিআইপিকে নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই তালিকায় আরও রয়েছেন দিল্লির সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস.এস. সান্ধু, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী এবং সিবিআই অধিকর্তা প্রবীণ সুদ। এমনকি তালিকায় নাম রয়েছে প্রয়াত অর্থনীতিবিদ বিবেক দেব্রয়েরও।
অভাবনীয় এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশন সাফাই দিয়েছে, ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকা এবং নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ার কারণেই এসব নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং যথাযথ কারণ দর্শানো ছাড়া কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার তথ্যমতে, দিল্লির খসড়া তালিকায় প্রায় ৯৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য ফরমে অসঙ্গতি পাওয়ায় নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩১.৬৩ লক্ষেরও বেশি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
কমিশন দাবি করেছে, এসআইআর নোটিশ কোনো ‘অস্তিত্বের সংকট’ নয় এবং সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আইআইটিতে পিএইচডি আবেদন আটকে যাওয়া, পাসপোর্ট পেতে জটিলতা এবং অন্য রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের আটক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে এই প্রক্রিয়ার জেরে।
এই প্রক্রিয়াকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লির এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ কর্মসূচি কি ভিআইপি ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি করেছে? খাড়গে অভিযোগ করেন, বিহার থেকে শুরু হওয়া এই এসআইআর প্রক্রিয়া এখন দিল্লিতে পৌঁছেছে। এটিকে বিজেপি ‘ভোট চুরি ও গণতন্ত্র ধ্বংসের’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা এখন ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানব’-এ পরিণত হয়ে খোদ তাদের নিজেদের লোককেই বিপদে ফেলছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই প্রক্রিয়াকে ‘শাহ-প্ররোচিত অপসারণ’ এবং ‘ভারতীয়দের ভোটাধিকার বঞ্চিত করার পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে খাড়গে জানান, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করে ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা সফল হয়েছেন। এর মাধ্যমে ১,১৩,৯৪৩ জন মানুষ পুনরায় ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম যুক্ত করার প্রায় ৩৭ লক্ষ আপিল নিষ্পত্তির ধীরগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংগ্রহের ফর্মে অসঙ্গতি থাকায় তাদের নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩১ দশমিক ৬৩ লক্ষেরও বেশি নোটিশ জারি করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর নোটিশ কোনো ‘অস্তিত্বের সংকট’ নয় এবং সুপ্রিম কোর্টও বারবার বলেছে যে, এসআইআর-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২