
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বাকি ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ জনের মধ্য থেকে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে তারা কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়।
আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে যাওয়া ১২ জন হলেন—শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাম্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ আসামিদের আদালতে হাজির করেন। শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্রে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১২ আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক শুক্রবার তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামের একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। নাশকতার উদ্দেশ্যে তারা একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
সিটিটিসি জানিয়েছে, রিমান্ডে যাওয়া শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডসহ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছিল পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২