ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রায় এক বছর ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ বছরের শিশু তানিয়া। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে আটকে রাখার মতো নৃশংসতার শিকার এই শিশুটি এখন খাগড়াছড়ির হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষিকা ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রীন রোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাইফুদ্দীন রাসেল (৪৮) ও তাঁর স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা মোর্শেদা আক্তার ছোটন (৩৮)। রাসেলের মিরপুরে ল্যাপটপের দোকান রয়েছে। কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলা করার জন্য শিশুটির বাবা ঢাকা যান।
ভুক্তভোগী তানিয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার মা নেই এবং বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে এবং পড়ালেখার আশায় প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে তানিয়াকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তখন সে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তোফাজ্জল আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করতে পারবে। তবে মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সেই ঠিকানা জানা ছিল না বাবার। তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ায় রাসেল ও ছোটন দম্পতির বাসায় পাঠানো হয়।
তানিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাসায় যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। সামান্য ভুলেই তাকে মারধর করতেন গৃহকর্ত্রী ছোটন ও তাঁর মেয়ে রাফাতুল। গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো এবং দিনের বেশির ভাগ সময় আটকে রাখা হতো টয়লেটে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নির্যাতনের সময়ে তানিয়াকে তার বাবার সঙ্গে একবারের জন্যও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি মেয়েটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করার পর তাকে ঢাকা থেকে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার তানিয়ার বাবা ফেনীতে যান এবং ওই দিনই রাত ৩টার দিকে তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই রেখে তানিয়ার চিকিৎসা চলছে। তার শরীরজুড়ে ক্ষত, শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ ও মাথায় একাধিক সেলাই রয়েছে। দুর্বলতার কারণে সে ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা জানান, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অভুক্ত থাকার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এদিকে তানিয়াকে নির্যাতনের খবর ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ আসামিকে তিন…
পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, শিল্প ও জমি নীতি নিয়ে…
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইআইআইএন নম্বরের বিপরীতে নিবন্ধিত সিম কার্ড সচল ও…
রাজবাড়ীর পাংশায় কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুন হত্যা মামলায় মিলন শেখ নামে এক যুবককে…
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন…
This website uses cookies.