নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের গোদনাইল পদ্মা ডিপোতে দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরির একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ডিপোর সাধারণ চেকার ফারুকুল ইসলাম ফাহাদ। সাধারণ একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ফাহাদের বিরুদ্ধে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল এবং আকাশচুম্বী মূল্যের জেড ফুয়েল পাচারের রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তেল চুরির মাধ্যমে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কদমতলী এলাকায় তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।
তেলবাহী গাড়ির স্টাফ গোলজার হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, ফাহাদ সিন্ডিকেট ডিপো থেকে দৈনিক ২ থেকে আড়াই হাজার লিটার জেড ফুয়েল, ২ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার লিটার অকটেন ও পেট্রোল পাচার করছে। দেড়শত থেকে দুইশত লিটার করে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ব্যবহার করে দৈনিক ৮ থেকে ৯ হাজার লিটার তেল পাচার করে ডিপোর বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই চুরির কাজে তাকে সহায়তা করেন কাজী মামুন, সাইফুল, রবি, শুভ, শাহিন এবং শাহ আলম ওরফে কালা শাহ আলম। চুরির বিষয়টি তদারকি করেন ফাহাদের নিয়োগকৃত রবি ওরফে মাইগ্যা রবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে ফাহাদ এই সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং এখনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
ফাহাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার কর্মস্থল ও বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি মোবাইল ফোনেও সাড়া দেননি। ডিপোর সিকিউরিটিরা জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। বর্তমান ডিপো ম্যানেজার আমিনুল হক জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়ে ফাহাদকে মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাম্প লাইনে দিয়েছেন এবং বাইরের তেল চুরি রোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, ফাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছরের ৩ জুন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক বরাবর লিখিত অনুরোধ জানিয়েছিলেন মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তদন্ত কমিটি ফাহাদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে একই বছরের ১৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের ১০ এপ্রিল ফাহাদকে নোটিশ দিলেও দেড় বছরেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দুদক কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, অভিযোগ জমা হলে তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শানলিউরফা প্রদেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এতে কোনো প্রাণহানি…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিল করবে পিটিআই। এই কর্মসূচিকে…
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিশেষ বিসিএসের…
শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)…
আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়…
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকার তা সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি…
This website uses cookies.