
সাহিত্যের কাজ কেবল গল্প বলা নয়, বরং পাঠকের মনে প্রশ্ন ও সন্দেহ জাগানো এবং স্বাভাবিক বিষয়গুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখানো—এমনটাই মনে করেন পোলিশ নোবেলজয়ী লেখক ও মনোবিজ্ঞানী ওলগা তোকারচুক। ২০১৮ সালের সাহিত্যের নোবেল বিজয়ী এই লেখক মনে করেন, সাহিত্য মানুষের চেতনার পরিধি বাড়াতে এবং জীবনকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর জার্মানি সফরকালে ডয়চে ভেলেকে (ডিডব্লিউ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাহিত্যদর্শন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ওলগা। ডিডব্লিউ-এর গেস্ট এডিটর মিখাল গোস্তকিয়েভিচ ও তার সহযোগী উইর্তুয়ালনার নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি ১০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে ডিডব্লিউ-তে ‘Olga Tokarczuk: Literature is meant to provoke thought’ (https://www.dw.com/en/olga-tokarczuk-literature-is-meant-to-provoke-thought/a-50795204) শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের সময় ওলগা তোকারচুক তার ‘জেকব্স স্ক্রিপচার্স’ উপন্যাসের পাঠসফরে জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। পটসডাম থেকে বিলেফেল্ডে যাওয়ার পথেই তিনি নোবেল বিজয়ের খবর পান, যা তার নিজের কাছেও দীর্ঘ সময় অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
তোকারচুকের উপন্যাসে রূপকথা, কল্পনা, পুরাণ ও ইতিহাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে, যেখানে বাস্তব ও কল্পনার সীমানা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যায়। তার খণ্ডিত আখ্যানের উপন্যাস ‘ফ্লাইটস’ নোবেল কমিটির কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায়। এই বইয়ে ভ্রমণকাহিনি, পৌরাণিক আখ্যান ও দার্শনিক ভাবনার সমন্বয়ে আধুনিক মানুষের যাযাবর জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য বুকস অব জেকব’ (২০১৪), ‘হাউস অব ডে, হাউস অব নাইট’ (২০২৫) এবং ‘ড্রাইভ ইয়োর প্লাউ ওভার দ্য বোন্স অব দ্য ডেড’ (২০০৯)।
ওলগা তোকারচুক সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি নারী অধিকার ও যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। পোল্যান্ডের সংস্কৃতিমন্ত্রী পিওত্র গ্লিনস্কি যখন তার বই পড়ার ঘোষণা দেন, তখন ওলগা জানান যে তিনি রাজনৈতিক দাবি নিয়ে লেখেন না, বরং মানুষের জীবন নিয়ে লেখেন। তবে মানুষের জীবনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে রাজনীতিকে এড়ানো যায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি তার ‘ড্রাইভ ইয়োর প্লাউ ওভার দ্য বোন্স অব দ্য ডেড’ উপন্যাসের কথা বলেন। যেখানে এক বৃদ্ধা পশু হত্যার প্রতিবাদে মানুষ হত্যা করেন। ওলগা স্বীকার করেন যে চরিত্রটি অপরাধী, তবে তিনি গল্পটি এমনভাবে লিখেছেন যাতে পাঠকের মনে পরিস্থিতির গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।
সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে ওলগা মনে করেন, পৃথিবী এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মানুষ পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধে ফিরে যেতে চান, আর অন্য দল মনে করেন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থাই গ্রহটিকে ধ্বংস ও অসমতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাই নতুন ব্যবস্থার প্রয়োজন। এই সংকটে লেখকের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, লেখকের কাজ সরাসরি উত্তর দেওয়া নয়, বরং মনের ভেতর প্রশ্ন রেখে যাওয়া। ওলগা তোকারচুক ১৯৬২ সালের ২৯ জানুয়ারি পোল্যান্ডের সুলেখুফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার পর লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২