যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাব্য যৌথ রূপরেখা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতারা। এই লক্ষ্যে আগামী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের পাঁচ তারকা হোটেল সেন্ট ডেভিডসে এক নজিরবিহীন যৌথ বৈঠকে বসছেন তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টাররা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বৈঠক শেষে নেতারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা বিষয়ে গণভোটের অধিকার দাবি করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যভুক্ত এই তিনটি আঞ্চলিক সরকারের নেতৃত্বই স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোর হাতে রয়েছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি মন্তব্য করেছেন যে, তিন অঞ্চলে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রমাণ করে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা আর টেকসই নয়। তিনি আরও বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারকে এখন ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে।
কার্ডিফের এই বৈঠকে অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। একইভাবে আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। ওয়েলসের কর ও নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও বৈঠকে তোলা হবে।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। জন সুইনিকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, ২০২৪ সালে নির্বাচিত সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী স্বাধীনতা বা নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। এদিকে বৈঠকের দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান, যা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো করেছে।
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নেতাদের এমন সমন্বিত উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে যৌথ বৈঠক, ঘোষণাপত্র বা স্বাধীনতার দাবি থেকেই যুক্তরাজ্য শিগগির ভেঙে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই সম্ভব নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতা, গণভোট এবং যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক…
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান…
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।…
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক…
চীনের লাইভস্ট্রিম শপিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সুপারস্টার লি…
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ…
This website uses cookies.