
নারীর অগ্রযাত্রা ও অর্জনের পরিধি দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, কিন্তু এর বিপরীতে নিরাপত্তাহীনতার এক অদৃশ্য চক্রে আটকা পড়ে আছেন নারীদের একটি বড় অংশ। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা নারীর অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পত্রপত্রিকায় নারী নির্যাতনের করুণ চিত্র নিয়মিত উঠে এলেও, এর প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় ঘটনাগুলো ধামাচাপা পড়ে যায় এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।
আধুনিক বিশ্বের উন্নত কাঠামোর অনুকরণে দেশ এগিয়ে গেলেও, নারীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়বদ্ধতার অভাবই এই নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ। একটি ভীতিহীন ও সুরক্ষিত পরিবেশ ছাড়া নারীর মেধা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। নারীরা নিরাপদ সমাজ পেলে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারেন, যা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে অপরিহার্য।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নারীদের জন্য সুরক্ষিত স্থান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। র্যাগিং, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের যৌন লালসার মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া, লজ্জা বা ভয়ের কারণে অভিযোগ না করার সংস্কৃতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সন্ধ্যার পর লাইব্রেরি, ল্যাব কিংবা আবাসিক হলে ফেরার পথটি অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই আতঙ্কের বিষয়। প্রকৃত নিরাপদ ক্যাম্পাস বলতে শুধু সিসিটিভি বা নিরাপত্তা কর্মী নয়, বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপের প্রবণতা বন্ধ করা বোঝায়।
রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন নারীদের জন্য প্রতিদিনের এক যুদ্ধক্ষেত্র। কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় গণপরিবহনে নারীরা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, বাজে মন্তব্য ও অনুসরণের মতো হয়রানির শিকার হন। সন্ধ্যার পর জনশূন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও নিয়মিত পুলিশি টহলের অভাব ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয়। অভিযোগ করলে উল্টো প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতি অনেক নারীকে চাকরি বা পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য করছে। একটি শহর তখনই আধুনিক বলা যায়, যখন একজন নারী রাত ১০টার সময়ও নির্ভয়ে চলাচল করতে পারে। তাই বড় শহরগুলোতে নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, নজরদারি বৃদ্ধি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২