
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সম্পর্কের মাধ্যমগুলো সহজতর হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন সব জটিলতা। এমন এক গোলকধাঁধায় অনেকেই আটকা পড়ছেন যেখানে সম্পর্ক আছে, কিন্তু পরিণয় নেই; আবার বের হওয়ার পথও যেন রুদ্ধ। এই অস্পষ্ট সম্পর্কের পরিস্থিতিকে মনোবিদরা অভিহিত করছেন ‘মেবিলেশনশিপ’ (Maybelationship) বা ‘মেবিলেটারশিপ’ (Maybelatership) হিসেবে।
ভারতের গণমাধ্যম ‘এইসময়’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্র ও অভিদীপ্তার মতো অনেক যুগলই এখন এই পরিস্থিতির মুখোমুখি। তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, দুই পরিবারও বিষয়টি জানে, এমনকি তারা একসঙ্গে সময় কাটালেও বিয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলেন। মা-বাবাদের প্রশ্নের উত্তরে তাদের প্রথাগত উত্তর থাকে, ‘এখনও কিছু ভাবিনি, দেখা যাক কী হয়!’
মনোবিদদের মতে, ‘মেবিলেশনশিপ’ সাধারণ ক্যাজুয়াল ডেটিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি জটিল। এখানে আকর্ষণ, আবেগ ও অধিকারবোধের কোনো অভাব থাকে না, অভাব কেবল একটি জিনিসের—স্বীকৃতি ও স্পষ্টতা। সম্পর্কের সব উপাদান মজুত থাকলেও গন্তব্যহীন এই যাত্রায় মানুষ কেবল ‘সম্ভাবনা’-র ওপর ঝুলে থাকে। ‘আমরা তো খুব ভালো বন্ধু ছিলাম’ ভাবলে পিছিয়ে আসাও সহজ হয়।
বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই কেন এমন অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, কমিটমেন্ট মানেই অন্য সব বিকল্পের দরজা বন্ধ করে দেওয়া, যা অনেকের কাছে ভয়ের কারণ। দ্বিতীয়ত, সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিক নাম না থাকলে রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা থাকে না। ৩) একটি সুস্থ সম্পর্ক দায়বদ্ধতা, যত্ন, বোঝাপড়া এবং সময় চায়। ৪) অতীতে ভালোবাসা বা বিশ্বাসে আঘাত পাওয়া মানুষ নতুন করে নিজেকে মেলে ধরতে ভয় পান, তাই মেবিলেশনশিপে তেমন কোনো উপাদান ছাড়াই সম্পর্কের উষ্ণতা পাওয়া যায়।
শুরুতে এই অনিশ্চয়তা মানসিক স্বস্তি দিলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি তীব্র হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যখন কোনো এক পক্ষ মানসিকভাবে বেশি জড়িয়ে পড়েন, তখন অন্য সঙ্গীর ক্যাজুয়াল আচরণ ও ব্যবহারে হেরফেরে মানসিক টানাপড়েন শুরু হয়। এই অনিশ্চিত সম্পর্কের ঝুলন্ত দড়ি শেষ পর্যন্ত অবসাদ এবং উদ্বেগের মতো গুরুতর মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ডেকে আনে।
সহজ কথায়, ‘সম্পর্কের সব উপাদান মজুত, কিন্তু ডেস্টিনেশন অজানা।’কেন বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই কমিটমেন্ট বা স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে থাকতে চান?১) কমিটমেন্ট করার অর্থ অন্য সমস্ত বিকল্পের দরজা বন্ধ করে দেওয়া।
এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ভয় থেকেই মানুষ অস্পষ্টতার আশ্রয় নেয়।২) সম্পর্কের কোনও আনুষ্ঠানিক নাম না থাকলে রিজেকশনের যন্ত্রণা থাকে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২