সম্প্রতি লন্ডনে সিলেটের পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়ে সিলেটে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সরকার পরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সিলেটের প্রভাবশালী নেতারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন। এই বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সিলেটের একাধিক নেতা, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সিলেটের টিলাগড় এলাকার দীর্ঘ ১৭ বছরের নিয়ন্ত্রক আজাদুর রহমান আজাদ ও রঞ্জিত সরকার। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর লন্ডনে তাদের এই সক্রিয়তা এবং বৈঠক নিয়ে সিলেটে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই বৈঠকে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
সিলেটের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ‘মাইনাস’ বা বাদ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৭-৮ বছর ধরে আনোয়ারুজ্জামান ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ফর্মুলাতেই সিলেটের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। এমনকি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে একপ্রকার কোণঠাসা করে রেখে তারা দল পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পলাতক নেতারা ভার্চ্যুয়ালি সক্রিয় থেকে দলকে গোছানোর চেষ্টা করছেন, যেখানে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তবে নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় দেশে থাকা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আসতেই আনোয়ারুজ্জামানের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন পলাতক নেতারা। নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই তারা এই পৃথক বৈঠকের আয়োজন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দ্বন্দ্বের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো দেশে ফেরার দলীয় নির্দেশনা। কমিটি গঠনে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফেরার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশনা রয়েছে যে, যারা দেশে ফিরবেন তারাই কেবল কমিটিতে পদ পাবেন, অন্যথায় তারা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। এই নির্দেশনায় প্রবাসে থাকা পলাতক নেতারা ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত। তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে দেশে ফিরলে তারা গ্রেপ্তার বা হামলার শিকার হতে পারেন, যা তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তারা অনুকূল পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করতে চান। অন্যদিকে, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাজ করায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন লন্ডনে থাকা নেতারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা জানিয়েছেন, লন্ডনের এই সভায় মূলত দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। এটি ছিল কেবল সিলেট থেকে পালিয়ে আসা নেতাদের একটি বৈঠক। এতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী কিংবা সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের মতো শীর্ষ নেতাদের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি কোনো আলোচনা না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার বিষয়ে অধিকাংশ নেতাই গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এদিকে ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী ও সিলেটের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গেও এই বৈঠকের যোগসূত্র রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…
বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…
This website uses cookies.