
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ঘিরে অন্তত শতাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতিনিয়ত প্রতারণা, ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। যদিও বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে, তবুও ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ও আইনি ঝামেলার ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে চান না। ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বোনের বিয়েতে পাঠানো স্বর্ণ লুটের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত ২৮শে আগস্ট রাতে বিমানবন্দর এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের সামনে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রউফ ও বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে। মামলার অপর আসামিরা হলেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন হোসেন ও বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রুবেল। গ্রেপ্তারকৃতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি গত ৮ মাসে অন্তত ২৫টি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত এবং তাদের নেটওয়ার্কে ২০০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে।
প্রতারণার আরেকটি কৌশল হিসেবে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করা হচ্ছে। সিলেট থেকে সৌদি ফেরত আলমগীর হোসেনের লাগেজে থাকা তথ্যের ছবি তুলে প্রতারকরা তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয় যে, কাগজপত্রের সমস্যার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে তারা ২০ হাজার টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সেই টাকা পাঠিয়ে দেয়। তবে র্যাব-১ এর কর্মকর্তারা শুক্রবার এমন একটি ঘটনায় টাকা লেনদেনের আগেই প্রতারককে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।
অপরাধীরা সাধারণত বিমানবন্দর থেকে বের হওয়া গেইট, সামনের মোড়, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবের বাস কাউন্টারের সামনে এবং কাওলার মোড় এলাকাকে তাদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করে। তারা স্বজনহীন যাত্রীদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সবকিছু হাতিয়ে নেয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দর ও এর পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। ডিএমপি উত্তরা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, পুলিশের পাশাপাশি বেবিচক, সিটি করপোরেশন ও ক্রাউন গ্রুপসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে কাওলা থেকে উত্তরায় জসিম উদ্দিন মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকা এবং তৃতীয় টার্মিনালের সামনে থেকে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত নতুন করে শতাধিক ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। আধুনিক এই ক্যামেরার ফুটেজ পরিষ্কার হওয়ায় থানায় বসেই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, অপরাধীরা অত্যন্ত চালাক এবং তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে গোয়েন্দা টিম দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এদিকে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম জানান, অপরাধীরা কৌশলী হওয়ায় নজরদারি এড়িয়ে অপকর্ম করার চেষ্টা করে, তবে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২