প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৮ (12 September 2026, 09:38)
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন একটি ক্লিকের মাধ্যমেই মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো ফেসবুক পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য গ্রাম থেকে শহর কিংবা দেশ থেকে বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইল ফোন যোগাযোগের মাধ্যমকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ নিজের মতামত প্রকাশ করছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। তবে এই অসীম ক্ষমতার সমান্তরালে আমাদের দায়িত্ববোধ কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় দেখা যায়, সত্যের চেয়ে গুজব অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভুল তথ্য ভাইরাল হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগলেও, তার সত্যতা যাচাই করতে নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রমাণের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন আমাদের সামনে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য আসে, যার মধ্যে আবেগঘন ও বিতর্কিত বিষয়গুলোই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজে ক্ষোভ, ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হয় এবং সত্য যখন প্রকাশ পায়, ততক্ষণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি এড়াতে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত। তথ্যটির উৎস কী, এটি সাম্প্রতিক নাকি পুরোনো এবং এটি আসলেই সত্য কি না—তা যাচাই করা জরুরি। আবেগের বশে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ রাগ, হতাশা বা উত্তেজনার মুহূর্তে কঠোর ভাষা বা বেপরোয়া অভিযোগ অনেক সময় মিথ্যাকে তথ্যের রূপ দেয়, যা পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে।
যেকোনো বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষার সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা সম্ভব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ধর্মীয় ও সামাজিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে অপমান করার প্রয়োজন নেই। শক্তিশালী ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্যই মানুষের আস্থা অর্জন করে, অশালীন ভাষা সাময়িকভাবে লাইক-শেয়ার বাড়ালেও তা ব্যক্তিত্বের নেতিবাচক প্রকাশ ঘটায়। স্ক্রিনের আড়ালে থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা যে আচরণ করি, তা-ও আমাদের সামগ্রিক চরিত্রের অংশ।
বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। এখন খুব সহজেই ছবি পরিবর্তন করা, ভিডিও সম্পাদনা করা কিংবা মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব। কোনো অজানা পেজ থেকে পাওয়া তথ্য বারবার শেয়ার করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। তাই যেকোনো 'ব্রেকিং নিউজ' বা প্রতিবেদন ফরোয়ার্ড করার আগে বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অনেক সময় মানুষ নিজের বিশ্বাস বা রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যাওয়া তথ্যগুলো যাচাই ছাড়াই সহজে বিশ্বাস করে এবং শেয়ার করে। একে ডিজিটাল প্রতিধ্বনি-ঘর বা 'ইকো চেম্বার' বলা হয়। একজন সচেতন ব্যবহারকারী হিসেবে নিজের বিশ্বাসের পক্ষের তথ্যকেও প্রশ্ন করা উচিত এবং ভুলবশত কোনো অসত্য তথ্য শেয়ার করে ফেললে তা সংশোধন করা পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেবল ঝুঁকির জায়গা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত মানবিক সহায়তা সংগঠিত করতে সাহায্য করছে। একটি ইতিবাচক ও যুক্তিনির্ভর বার্তা সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সবার হাতে থাকা এই ডিজিটাল মাইক্রোফোনের স্বাধীনতা যেমন আমাদের অধিকার, তেমনি এর সঠিক ব্যবহার করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন তাঁর এক লেখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মানুষের দায়িত্ববোধ, বিবেক ও চরিত্রের প্রতিদিনের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিশেষে আমরা অনলাইনে কী বলছি এবং কতটা সত্য ও মানবিকভাবে বলছি, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সিরাজগঞ্জ শহরের পৌর ভাসানী মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে…
আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রের…
বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।…
রাজধানীর গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দশমিনার আরিফ…
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কৌশলগত হতাশার’ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত…
This website uses cookies.