প্রতিবেশীর মেয়ের ঘর ছাড়ার খবর শুনে নিজের মেয়ের ওপর নজরদারি বাড়াতে গিয়ে এক মায়ের অদ্ভুত ও হাস্যকর সব অভিজ্ঞতার গল্প উঠে এসেছে পারিবারিক আবহে। হেলেনা খানম ও তারেজুল হক দম্পতির আলোচনায় উঠে আসে পাশের ফ্ল্যাটের রমিজ সাহেবের মেয়ে রিয়ার কাণ্ড। ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক ছেলের সঙ্গে ঘর বেঁধে সংসার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে টাকা ও কাপড় নিয়ে পালিয়েছিল রিয়া। রেলস্টেশনে দেখা করার পর রিয়া আগে বিয়ের দাবি জানালে ছেলেটি গ্রামে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে কাজী অফিসের খোঁজে রিয়া তাড়া দিলে ছেলেটি চমকে উঠে জানায়, তারা মন্দিরে বিয়ে করবে। তখনই প্রকাশ পায় তাদের ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের কথা, যা আগে কেউই খেয়াল করেনি।
রিয়ার এই কাণ্ড শুনে হেলেনা খানম হাসাহাসি করলেও তাঁর স্বামী তারেজুল হক তাঁকে সতর্ক করে দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, তাদের নিজেদের মেয়ে তৃপ্তিও এখন বড় হয়েছে এবং এ বছরই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে। সারাক্ষণ মোবাইল ফোন আর প্রাইভেট পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকা মেয়ের দিকে কড়া নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি। স্বামীর এমন কথায় হেলেনার মনেও সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে। তিনি প্রায়ই মেয়ের ওপর আড়ি পাতার চেষ্টা করতে থাকেন।
একদিন রাতে বারান্দায় তৃপ্তিকে ফিসফিস করে বলতে শোনেন, "হ্যাঁ, চুপ করে আসবে। কেউ যেন না দেখে।" মায়ের বুক কেঁপে ওঠে এই আশঙ্কায় যে, গভীর রাতে হয়তো কোনো ছেলে মেয়ের সাথে দেখা করতে আসছে। সাধারণত রাত এগারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া হেলেনা সেদিন রাত বারোটা পর্যন্ত জেগে থাকেন। ঠিক বারোটায় তৃপ্তি আর তানভীর নামের এক ছেলে তাঁকে ড্রইংরুমে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি বড় গামলা দিয়ে ঢাকা ছিল জন্মদিনের কেক, যাতে লেখা ছিল "হ্যাপি বার্থ ডে মা"। মূলত বান্ধবীর মায়ের কাছ থেকে বানানো এই হোমমেড কেকটি মায়ের অজান্তে ডেলিভারি নিতেই তৃপ্তি তার বান্ধবীর ছোট ভাইকে গোপনে আসতে বলেছিল।
মেয়ের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে হেলেনা আরও একবার অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে পড়েন। তৃপ্তি তার বান্ধবী সাবিনার বাসায় জন্মদিনের দাওয়াতে গেলে হেলেনা সন্দেহবশত সাবিনাকে ফোন করেন। নিজের পরিচয় লুকিয়ে তিনি বলেন, "আমি তৃপ্তির বান্ধবী তমা বলছি। তৃপ্তি কি তোমার সাথে আছে নাকি বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে গেছে?" ওপাশে থাকা সাবিনা হকচকিয়ে গেলেও কিছুক্ষণ পর তৃপ্তির হাসির শব্দ শোনা যায়। তৃপ্তি ফোন নিয়ে জানায়, সাবিনা তার মায়ের নম্বরটি ‘আন্টি’ নামে সেভ করে রেখেছিল, তাই তাদের চালাকি ধরে ফেলা কঠিন ছিল না।
আজকালের টিনএজারদের আচরণ বোঝা সত্যিই কঠিন। একদিন তৃপ্তির মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে ‘গরু – ৫’, ‘গাধা-২’, ‘পাগলি-৩’, ‘জান-১’, ‘জান-২’—এমন অদ্ভুত সব নাম দেখে হেলেনা আবার সন্দেহ করেন। তবে তৃপ্তি জানায়, সহপাঠীদের আসল নাম মনে রাখতে না পারায় সে এভাবে নামগুলো সেভ করে রেখেছে। মায়ের সন্দেহ তাতেও দূর হয়নি। একদিন তৃপ্তি কলেজে গেলে হেলেনা তার ডায়েরি খুলে পড়তে শুরু করেন। প্রথম কয়েক পৃষ্ঠায় বাড়ির কাজের তালিকা থাকলেও শেষ পাতায় লেখা ছিল, "আম্মু, তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে আমার ডায়েরি পড়ছ কেন?"
মেয়ের ওপর এমন গোয়েন্দাগিরির কৌশল হেলেনা আসলে শিখেছেন তাঁর নিজের মায়ের কাছ থেকে। অতীতে দুলালদা নামের এক বিবাহিত শিক্ষক যখন হেলেনাকে গান শেখাতে আসতেন, তখন তাঁর ছোট ভাই রিপনকে পাহারা দেওয়ার জন্য পাশে বসিয়ে রাখা হতো। অবশ্য সেই নজরদারির একটি ইতিবাচক ফল মিলেছিল; পাহারায় বসতে বসতে রিপন নিজেই এখন বেশ ভালো গান গাইতে পারে।
রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…
বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…
This website uses cookies.