
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে নিজেদের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প পথ খুঁজছে কাতার। হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এবং নিজেদের উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম সংকটে পড়া দেশটি এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
একসময় বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করত কাতার। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে কাতার থেকে জ্বালানি রপ্তানি প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান এবং নতুন নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা। নিজেদের গ্যাস পোর্টফোলিও সম্প্রসারণে কাতারের জন্য এটিই প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ।
সংঘাত শুরুর আগে কাতার তাদের জ্বালানি খাতের প্রসারে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আগে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি প্ল্যান্টের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য ছিল তাদের। কিন্তু যুদ্ধের শুরুর দিকেই বিশ্বের বৃহত্তম এই গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাটি ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্ল্যান্টটি পুরোপুরি সচল করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে, এই যুদ্ধ সহসাই থামার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশ্লেষকরা। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই সংঘাত ২০২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ইরান এই লড়াই আরও তীব্র করতে প্রস্তুত। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের এই আশঙ্কাই মূলত কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের দিকে ধাবিত করেছে।
তবে মার্কিন জ্বালানি বাজারে কাতারের অবস্থান আগে থেকেই বেশ সুবিধাজনক। টেক্সাসে অবস্থিত ‘গোল্ডেন পাস এলএনজি’ প্ল্যান্টের অন্যতম অংশীদার কাতার। গত এপ্রিল থেকে এই প্ল্যান্টটি রপ্তানি শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, স্বল্পমেয়াদি বা স্পট ট্রেডিংয়ের জন্য কাতারএনার্জির নিজস্ব ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২