
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলার জরিমানা মওকুফ করাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান বিচারপতি এবং অন্য চার বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান, যার ফলে আপিল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল আদালত অঙ্গনে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অনেক সিনিয়র আইনজীবীও অতীতে আপিল বিভাগে এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটার কথা মনে করতে পারেননি।
can ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সকালে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরুর পর। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি। দিনের কার্যতালিকার প্রথম মামলাটি ছিল যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রিট সংক্রান্ত একটি আপিল। শুনানিতে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা দেখান যে, আপিলকারী মোহাম্মদ নূর আলম একই বিষয়ে তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে একাধিক রিট দায়ের করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
এই গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে আপিল বিভাগ রিটকারী মোহাম্মদ নূর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহমেদকে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা (খরচা আরোপ) করেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক জানান, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগ নিয়ে এ মামলার সূত্রপাত। নূর আলম ২০১৬ সালে একটি রিট দায়ের করে হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। সেখানেও আপিল বিভাগ অস্থায়ী নিয়োগ বাতিল করে স্থায়ী নিয়োগ বহাল রাখে। এরপর ২০১৮, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে আগের আদেশগুলো গোপন করে নতুন নতুন রিট আবেদন করা হয়। টানা তিন দিন শুনানির পর আপিল বিভাগের রেকর্ড ও পুরনো ফাইল তলব করে এই প্রতারণা ধরা পড়ে।
জরিমানার আদেশ দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী সুফিয়া আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি তা মেনে নেন। তবে দুপুরের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন মৌখিকভাবে ওই নারী আইনজীবীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের আবেদন জানান। তিনি বলেন, একজন জুনিয়র আইনজীবীর জন্য এই জরিমানা অনেক বেশি। প্রধান বিচারপতি এই আবেদন নাকচ করে বলেন, আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা পরিবর্তন হবে না, কারণ এখানে গুরুতর জালিয়াতি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের পর মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।" বার সভাপতির এই মন্তব্যকে আদালত অবমাননাকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি খোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনি যেহেতু এত বড় কথা বলেছেন, আজকে আমি আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না।" এরপরই প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন এবং আপিল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকায় দুই পক্ষের আইনজীবী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে এ তথ্য জানা যায়।
can ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে যখন জরিমানার আদেশ হয়, তখন আইনজীবী সুফিয়া আহমেদ তার পাশেই বসা ছিলেন এবং বলছিলেন, "খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল।" কারণ এই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন, যদিও সকালে আদেশের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে অন্য মামলার সময় খোকন বিষয়টি তোলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততাকে প্রাধান্য দেন এবং প্রতারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছিল।
অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি কোনো বিতর্ক বা তর্ক করেননি, বরং ন্যায়বিচারের স্বার্থে একজন জুনিয়র আইনজীবীর জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেছিলেন। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পক্ষে কথা বলা তার দায়িত্ব। "আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে" বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত শুনানি হতো। এখন মাত্র একটি বেঞ্চ থাকায় হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে এবং চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়ার পর তা শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজার একটি মামলা এক বছর ধরে আপিল বিভাগে আটকে আছে। তিনি আশা করেননি যে প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে এত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।
আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী কর
তিনি বলেন, বিষয়টি একদিনে নিষ্পত্তি হয়নি। টানা ৩ দিন শুনানি হয়েছে। শুনানির সময় আপিল বিভাগের রেকর্ড ও পুরনো ফাইল তলব করে দেখা হয়, একই বাদী ও একই আইনজীবী পর পর একাধিক রিট আবেদন করেছেন এবং আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিট আবেদনকারী এবং তার আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। ব্যারিস্টার মাহবু
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২