Header Premium (728×90)

ইরান সংঘাত শেষে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও ঘাঁটি কমানোর পরিকল্পনা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে গোপন আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে গুটিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এ বিষয়ে অবগত ছয়টি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ অন্তত ছয়টি দেশে সামরিক অভিযান পরিচালনায় এসব ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। এসব ঘাঁটির বেশ কয়েকটি বারবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে এবং এই অজনপ্রিয় যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনেরও বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সেখানে রয়েছে। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা ভাবী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ট্রাম্প এখনো যুদ্ধ-পরবর্তী কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ঘোষণা না করলেও, অতীতে তিনি বিদেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সংঘাত যখন চরমে পৌঁছায়, তখন সিআইএর যেসব কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আবারও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধ শেষ হলেও সেখানে অবস্থানরত অবশিষ্ট সেনাদের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেতে কিছু সামরিক স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী বছর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে কয়েকটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন বাহিনী। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কৌশলগত বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়া যৌক্তিক হবে না বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। সিআইএ এবং মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ডের কিছু কর্মকর্তা এমন একটি মডেল বিবেচনা করছেন, যেখানে স্থায়ী ঘাঁটির প্রয়োজন হবে না। এই পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় কর্মী ও সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে রাখা হবে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযানের জন্য সাময়িকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে কাজ শেষে আবার ফিরিয়ে আনা হবে।

ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু স্থাপনা ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে আর নতুন করে তৈরি নাও করা হতে পারে। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর বদলে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বাড়ানোর একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কয়েকটি বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখতে চাইলেও, সেগুলোর পুনর্নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কতটা ব্যয় বহন করতে রাজি, তার ওপর নির্ভর করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

Recent Posts

নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ…

11 minutes ago

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা শীতকালীন আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর সেভেন…

18 minutes ago

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে…

21 minutes ago

সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত সাবেক সংসদ সদস্য এবং…

24 minutes ago

আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী…

44 minutes ago

বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বিশ্রামরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর চালক আজান…

49 minutes ago

This website uses cookies.