
প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর ফরিদপুরকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী টাকায়াব ইউসুফ আহমেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদপুর একটি ঐতিহ্যবাহী ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর। সময়ের ব্যবধানে এখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে, যার ফলে নাগরিক সেবার চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সীমিত পৌরসভা কাঠামো দিয়ে নাগরিকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবেদনে ফরিদপুর পৌরসভার আয়তন ও পরিধি বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, অতীতে এই পৌরসভার আয়তন ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার এবং ওয়ার্ড ছিল ৯টি। বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে এবং ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭টিতে। এর ফলে পৌরসভার সেবা কার্যক্রমের পরিধিও আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে।
সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, ফরিদপুরের বাসিন্দারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের সমপরিমাণ কর ও নানাবিধ ফি প্রদান করলেও সেই অনুপাতে উন্নত অবকাঠামোগত সুবিধা ও নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে হলে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। আর এসব সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হলে ফরিদপুর একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনই গতিশীল হবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশনার পর ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, প্রশাসনিক কাঠামো, জনসংখ্যা, আয়তন, নিজস্ব রাজস্ব সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নগর অবকাঠামোসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২