
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৪৮
দিনের সৌন্দর্য যেমন আলোর উপস্থিতিতে বিকশিত হয়, তেমনই মানুষের প্রকৃত সম্মান বৃদ্ধি পায় একটি সুন্দর হৃদয়ের মাধ্যমে। যে হৃদয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই কিংবা মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকার তাগিদ নেই, তাকে প্রকৃত হৃদয় বলা চলে না। বাহ্যিক গায়ের রঙ কালো নাকি ফর্সা, শারীরিক গঠন লম্বা নাকি বেঁটে—এসব দিয়ে কখনো মানুষের আসল বিচার হয় না। এমনকি বিপুল অর্থসম্পদ দিয়েও মনের সৌন্দর্য পরিমাপ করা যায় না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায় তার মানবিক কাজের মাধ্যমে। মনের ভেতরে পশুত্ব লালন করে কেউ কখনো শ্রেষ্ঠ মানুষ হতে পারে না। মূলত মানুষের প্রতিটি সুন্দর কাজই তার নৈতিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
নৈতিকতা হলো এমন একটি অনন্য গুণ, যা মানুষের অন্তরের ভেতর থেকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়। এটি মানুষকে জানিয়ে দেয় যে, কোনো অন্যায় কাজ করা যাবে না, যা মানুষের কল্যাণে আসে না এবং সমাজে নিজের অবস্থানকে খাটো করে। জীবনকে গৌরবময় ও অর্থপূর্ণ করতে হলে শৈশব থেকেই এই নৈতিকতার বীজ বপন করা প্রয়োজন। জীবনের প্রথম বাঁকে নিজেকে যেভাবে গড়ে তোলা যাবে, ভবিষ্যৎ জীবনে তার প্রতিফলন ঠিক সেভাবেই ঘটবে। তাই শৈশবেই স্বপ্নের রঙে জীবনকে সাজিয়ে নিতে হবে, যেখানে থাকবে আদেশ ও নৈতিকতার দৃঢ় ভিত্তি।
আদর্শ জীবন গঠনের মূল শর্ত হলো সত্যের পথে চলা। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে এবং চরম অসত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও সত্যের জয়গান গাওয়াই হলো প্রকৃত নৈতিকতা। জীবনকে অন্যায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনো আদর্শ হতে পারে না; বরং জীবনের সব পরিস্থিতিতে নিজের অন্তরে লালিত বিশ্বাস ও সততাকে শক্তভাবে ধরে রাখাই হলো প্রকৃত আদর্শ। জীবনে চলার পথে নানা প্রলোভন, ষড়যন্ত্র কিংবা মিথ্যা অপবাদ আসতে পারে। এমনকি যে অন্যায় কেউ কখনো করেনি, তাও তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে নিজের নৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে হবে, কারণ সত্যকে চাপা দিয়ে মিথ্যা কখনো জয়ী হতে পারে না।
যেকোনো কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভয় না পেয়ে নিজেকে শক্ত করা জরুরি। এ সময় সম্পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে মহান আল্লাহর ওপর। পৃথিবীর কেউ পাশে না থাকলেও সৃষ্টিকর্তা মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন এবং দুঃসময়ে তাকে ছেড়ে যান না। নিজের মনের সব কথা ও বেদনা আপন ভেবে আল্লাহর কাছে প্রকাশ করলে তিনি তা শোনেন। অতীতে কী হারিয়ে গেছে তা নিয়ে আফসোস না করে, সততার সাথে পথ চললে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি পাওয়া সম্ভব। তাই প্রতিদিনের কাজে মনোযোগ বাড়িয়ে সৎ, সংশোধিত ও আদর্শ মানুষ হওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হবে।
দিনের শেষে যখন চারপাশ নীরব হয়ে আসে এবং দেহ এলিয়ে পড়ে, তখন পুরো মনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে চলে আসে। এই নীরব মুহূর্তে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—সারাদিনের কোন কাজগুলো সঠিক ছিল আর কোনগুলোতে ভুল ছিল। এভাবে নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা নিজের কাজের মূল্যায়ন করলে মানুষ একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে, মনে প্রশান্তি আসে এবং অন্যায়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়ে ভালো কাজের প্রতি এক অনন্য তৃপ্তি অনুভব করা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২