
খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর কোনো এক সকালে, চীনের চাংআনের হুয়াই গাছের নিচে জড়ো হয়েছিল একদল ছাত্র। যদিও প্রাচীন দলিলে সূর্যের অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাসবিদদের মধ্যে সময় নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে সেই সকালটি ছিল অনন্য। মুদ্রণযন্ত্রের উদ্ভাবনের আগের সেই যুগে বই ছিল শ্রমসাধ্য এক কর্ম। বাঁশের ফলক, রেশম বা হাতে নকল করা পাণ্ডুলিপি ছিল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। একটি অক্ষর ভুল হলে পুরো চিন্তার অর্থ বদলে যেত, আর একটি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেলে হারিয়ে যেত মূল্যবান দর্শন।
চীনের পশ্চিম হান যুগে (২০২ বিসিই-২২০সিই) চাংআনের তাইশুর কাছে হুয়াই গাছের নিচে গড়ে উঠেছিল এই বইয়ের বাজার। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা মাসের নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে মিলিত হতো এবং বই কেনাবেচা বা বিনিময়ের মাধ্যমে ধারণার আদান-প্রদান করত। এটি কেবল পণ্য কেনাবেচার বাজার ছিল না, বরং ছিল জ্ঞান বিনিময়ের কেন্দ্র। একজন ছাত্র হয়তো তার প্রিয় বই দিয়ে অন্য কোনো বিরল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করত, যা তার ভবিষ্যৎ চিন্তাধারা ও শিক্ষকতায় প্রভাব ফেলত।
বইয়ের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, কারণ তৎকালীন সময়ে জ্ঞান ছিল বিরল এবং তা ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান করত। রাজদরবার বা পণ্ডিতদের সংগ্রহশালায় বই সীমাবদ্ধ থাকলেও হুয়াই শির মতো বাজারগুলো বইয়ের দ্বিতীয় জীবন শুরু করত। পরবর্তী যুগে ‘শু সি’, ‘শু ফাং’ বা ‘শু পু’ নামে বইয়ের দোকান গড়ে ওঠে। পূর্ব হান যুগের লুওয়াংয়ের বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বই পড়ার গল্পটি ওয়াং ছংয়ের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যিনি পরবর্তীতে বিখ্যাত ‘লুনহেং’ রচনা করেন।
মুদ্রণপ্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সুং যুগে বই ছাপার কাজ সহজতর হয়, বিশেষ করে ফুজিয়ানের জিয়ানইয়াং হয়ে ওঠে মুদ্রণশিল্পের কেন্দ্র। মানুষ বই তৈরি করত মূলত ভুলে যাওয়ার ভয় থেকে; যেন রাজবংশ বা সম্রাটের পতনের পরেও তাদের চিন্তা ও ইতিহাস টিকে থাকে। বই হয়ে ওঠে সভ্যতার স্মৃতির পাত্র। হুয়াই গাছগুলো আজ হয়তো নেই, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় সেই বইয়ের বাজারের স্মৃতি আজও অম্লান, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা বই পড়ি ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বই-ই আমাদের মনে পড়ে থাকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২