
ইস্তাম্বুলের চুকুরজুমার একটি ছোট্ট বাড়ি আজ মানুষের স্মৃতির মানচিত্রে বিশাল এক জায়গা দখল করে নিয়েছে। নোবেলজয়ী লেখক ওরহান পামুকের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রকাশের চার বছর পর, ২০১২ সালে এই বাড়িটি একটি বাস্তব জাদুঘরে রূপ নেয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ৫ জুলাই ‘ইউরোনিউজ’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে লেখক নিজেই এই জাদুঘরের দর্শন, বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির শক্তি এবং এর ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন।
সাধারণত কোনো উপন্যাসের জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র, নাটক বা জাদুঘর নির্মিত হয়। তবে পামুকের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি প্রথমে বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন এক কাল্পনিক জগৎ। সেই জগতের মূল চরিত্র কেমাল এবং তার প্রেমিকা ফুসুন। প্রেমিকার স্মৃতিকে ধরে রাখতে কেমাল সংগ্রহ করতে শুরু করে ফুসুনের ব্যবহৃত নানা জিনিস—একটি কানের দুল, চামচ, লবণের পাত্র, পুরোনো ঘড়ি কিংবা সিনেমার টিকিট। এই সংগৃহীত বস্তুগুলোর চারপাশেই আবর্তিত হয়েছে ২০০৮ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটি। বইটির ভেতরে একটি টিকিটও রয়েছে, যা পাঠককে সরাসরি এই জাদুঘরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।
এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণীয় ও অদ্ভুত প্রদর্শনী হলো ফুসুনের ফেলে দেওয়া ৪,২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ। প্রতিটি সিগারেটের টুকরো তারিখ ও বছর অনুযায়ী সাজানো রয়েছে, যার প্রতিটি কেমালের কোনো না কোনো স্মৃতির সাক্ষী। এগুলো কেবল সিগারেটের অবশিষ্টাংশ নয়, যেন সময়ের এক একটি ক্ষুদ্র কঙ্কাল। কাচের বাক্সে বন্দি এই বস্তুগুলো মৃত মানুষের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে।
জাদুঘরটিতে পামুকের নিজের জীবনেরও এক প্রতিফলন দেখা যায়। একদিকে ইস্তাম্বুল আর অন্যদিকে নিউইয়র্কের দ্বৈত জীবনকে ফুটিয়ে তোলে কেমালের ‘দ্য ইস্ট-ওয়েস্ট ওয়াচ’ নামের একটি অটোমান পকেটঘড়ি। ঘড়িটির দুটি মুখ—একটি তুরস্কের সময় দেখায় এবং অন্যটি ইউরোপের। এটি কেবল সময় নয়, বরং পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার পরিচয়ের দ্বন্দ্বকেও তুলে ধরে।
রাষ্ট্রীয় জাদুঘরগুলো যেখানে যুদ্ধ, বিজয় আর জাতীয় গৌরবের ইতিহাস সংরক্ষণ করে, সেখানে পামুকের এই জাদুঘর সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আবেগের কথা বলে। একজন তরুণ গবেষক এই নিখুঁত আয়োজন দেখে মন্তব্য করেছিলেন যে, এটি যেন একটু বেশিই নিখুঁত, যা মানুষকে এমন এক অতীতের জন্য নস্টালজিক করে তোলে যা তাদের নিজেদের ছিল না। নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একটি সিরিজের মাধ্যমে এই অনবদ্য গল্পটি এখন আরও বড় দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২