চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হানি ট্রাপে ফেলে একের পর এক বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার শাষীয়ালী গ্রামের মো. নাছির উদ্দীনের মেয়ে। একের পর এক স্বামী বদল ও প্রতারণার এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তি চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী আবুল বাশারের দাবি, তার প্রবাসী ছেলে মাসুমের মৃত্যুর পর নাছরুম আক্তার তাদের ওপর মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন এবং বিভিন্ন কৌশলে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায় প্রথমে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে তার বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট নাছরুম তার ভগ্নিপতি নয়ন ও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালান। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাশার।
অভিযোগে আরও জানা যায়, নাছরুম আক্তার মৃত মাসুমের সঙ্গে তার বিয়ের প্রমাণ হিসেবে আইনজীবী নওশেদের স্বাক্ষর করা একটি এফিডেভিট প্রদর্শন করেন। তবে সত্যতা যাচাই করতে গেলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানান, তিনি এমন কোনো এফিডেভিট দেননি এবং এ বিষয়ে একটি প্রত্যয়নপত্রও দেন। এরপর নাছরুম চাঁদপুর সদরের শাহমাহমুদপুরের এক কাজীর স্বাক্ষরিত কাবিননামা দেখান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাজীও লিখিত প্রত্যয়নপত্র দিয়ে জানান যে কাবিনটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাছরুম বর্তমানে সাইফুল ইসলাম মাসুম নামের যে ব্যক্তির সঙ্গে সংসার করছেন, তার পক্ষেও বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।
অনুসন্ধানে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একাধিক যুবককে হানি ট্রাপে ফেলে বিয়ে ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরিদ নামে এক প্রবাসীকে একইভাবে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার পর তার ফার্নিচার, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি, যার কারণে ফরিদ পুনরায় প্রবাসে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর মাইনুদ্দিন নামে আরেক যুবককে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর কিছুদিন পর নিজের ফুপাতো ভাই পরিচয় দিয়ে খোরশেদ নামের একজনকে এবং পরে কড়ইতলী দর্জিবাড়ির রফিকুল ইসলাম মন্টু দর্জির সঙ্গেও প্রতারণা করে কাবিনের টাকা হাতিয়ে নেন নাছরুম। এমনকি ঢাকায় গিয়ে সাগর নামে আরেক যুবকের সঙ্গেও ভুয়া কাবিননামার মাধ্যমে প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিয়ের নামে ভুয়া কাবিন ও হানি ট্রাপের মাধ্যমে একের পর এক প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাছরুম আক্তার তার জীবনে একাধিক বিয়ের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে। বর্তমানে আমি মাসুমের স্ত্রী। আর মাসুমের বাড়িতেই ৩ বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই, আমি ওখানেই থাকব।" এদিকে ভুক্তভোগী মৃত মাসুমের বাবা আবুল বাশার ও তার পরিবার এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে আইনি ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমের বাড়তি দামে সাধারণ…
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় নাগরিককে…
প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের যুগে ইসলামের দাওয়াহ বা প্রচারের ক্ষেত্রে যেমন অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে,…
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ হয়েছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টার…
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর চট্টগ্রামে বসে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন…
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে ৩ কোটি…
This website uses cookies.